ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হানা হয়েছে এবং সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে, এই জলপথে একদিনে এত বেশি সংখ্যক জাহাজের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি তেল স্থানান্তর করার সময় হামলার শিকার হয় এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে অকেজো হয়ে পড়েছে।
এই দাবিগুলো স্বতন্ত্রভাবে আল জাজিরার পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হতাহতের ঘটনা বা ট্যাঙ্কারগুলো কোন দেশের পতাকাবাহী, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশে ট্যাঙ্কার চলাচলে সহায়তা করার পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
আইআরজিসি তাদের ‘সেপাহ নিউজ’ ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই জেনে রাখা উচিত যে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে সংঘাত এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। এটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা।’
ইরান হরমুজ প্রণালিরর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এটি একটি কৌশলগত নৌপথ, যার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। ইরান নিয়মিতভাবে এমন সব জাহাজে হামলা চালায়, যেগুলো তাদের অনুমতি ছাড়া এই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্রমবর্ধমান হারে এই জলপথ দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ১যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইরান সম্ভাব্য সবকিছুই করছে।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইরানি মাইন সংক্রান্ত দাবিগুলো সঠিক নয়।
ওই মুখপাত্র বলেন, মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো থেকে মাইন অপসারণ করেছে এবং ইরান বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করছে।
তিনি আরও জানান, প্রণালিটি এখনও উন্মুক্ত রয়েছে এবং ৯৫ শতাংশ জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে।
মুখপাত্রের মতে, এই হামলাগুলো মার্কিন অবরোধের মুখে তেহরানের ‘হতাশা’কেই ফুটিয়ে তোলে। এই অবরোধের কারণে ইরান এমন সব প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন।
নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘তারা ভুয়া হামলা, মাইন পাতা বা এ ধরনের নানা ঘটনার নাটক সাজাচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো, সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে।’