বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীবাড়ী ইসলামী ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ঢাকার বার্তা মোদিকে জানাতে দিল্লি গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮৪ ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয় Bigg Boss 20’s ScoutOP Hints At Feelings For ‘Sister’ Love Gill: ‘Usse Pehle Friend Hota Hai Naa…’ | Television News Head coach Zinedine Zidane celebrates first home win as France crush Belgium 4-1 at Nations League | Football News কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট ও মশক নিধন সামগ্রিক বিতরণ কূটনীতিকদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন ‘আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ২১৭ সময় দেখুন
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল, ভোগান্তিতে রোগীরা


চাঁপাইনবাবগঞ্জ: নাতনিকে নিয়ে শিশু চিকিৎসকের খোঁজে হাসপাতালের একতলা থেকে আরেকতলায় ঘুরছিলেন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব উদ্দিন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ তিনি। মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘শিশু ডাক্তারকে খুঁজছি, কিন্তু কোথায় পাব বুঝতে পারছি না।’

মাহতাব উদ্দিনের মতো প্রতিদিনই অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের অনুমোদিত ৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন সাতজন। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের আটটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন। প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে দুটি এবং সহকারী রেজিস্ট্রারের নয়টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক মাসে সাতজন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। এর বিপরীতে নতুন যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় চর অনুপনগরের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে তার মা ফাতেমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজিজুর রহমান বলেন, ‘এখানে ভর্তি করে লাভ কী, যদি চিকিৎসা না পাওয়া যায়?’

অন্যদিকে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘নাতনীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কিন্ত শিশু ডাক্তারকে পেলেন না, এখন কি করবেন বুঝতে পারছেন না। দীর্ঘক্ষণ বসেছিলেন দোতালায় শিশু ডাক্তারের আশায়, কিন্ত কাউকে পাচ্ছেন না। শুধু মাহাতাব উদ্দিন নয়, তার মতো আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে দেখা গেছে।

চিকিৎসকের পাশাপাশি সংকট রয়েছে হাসপাতালের অন্যান্য জনবলেও। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। যেন হাসাপাতালে স্বজনের চিকিৎসার জন্য এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম বলে অভিযোগ করছেন এক নারী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আসিয়া খাতুন, অভিযোগ করেন স্বামী তরিকুল ইসলামকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন, হাসপাতালের পরিবেশে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আসিয়া খাতুন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে টয়লেট পরিষ্কার করতে কাউকে আসতে দেখিনি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে প্রতিদিনই শয্যা সংখ্যা বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, অন্যদিকে বহিবিভাগে দুই হাজারের বেশি রোগী দেখতে হয় চিকিৎসকদের।

হাসপাতালের দ্বিতলায় লিফটের পাশেই থাকা কক্ষে এক চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে জানান, তিনি এখন পযন্ত ২০০ বেশি রোগী দেখেছেন। তখনও সেই কক্ষের সামনে অন্তত আরও ৩০-৪০ জন অপেক্ষমান ছিলেন। এ চিকিৎসক জানান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পযন্ত সময়ে তাদের প্রতিদিনই প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি রোগীকে দেখতে হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল আমরা এখনো পাইনি। জনবল সংকট আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকজন চিকিৎসক পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়েছেন, বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, ‘বর্তমানে সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক যোগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর