বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে আসছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটি মন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ২০৭ সময় দেখুন
স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে আসছে ‘ন্যাশনাল হেলথ কার্ড’: আইসিটি মন্ত্রী


ঢাকা: ‎গ্রাম ও শহরের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালু করছে সরকার।

‎বুধবার (২২ জুলাই) চীনের শি’আনে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইন্টিগ্রেশন ফর হেলথ–টুওয়ার্ডস আ নিউ কো-অপারেটিভ ইকোসিস্টেম অ্যালং দ্য সিল্ক রোড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ কথা বলেন।

‎মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পিত ন্যাশনাল হেলথ কার্ড চালু হলে দেশের যেকোনো প্রান্তে অবস্থানরত রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য তথ্য চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন। এর ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হবে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং সমন্বিত।’

‎ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘এটি কেবল প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়; এটি স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকার একটি আধুনিক হাসপাতালে একজন রোগী যে মানের চিকিৎসা পান, দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের একজন মানুষও যেন একই মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পান।’

‎ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘সরকার একটি মানবকেন্দ্রিক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি প্রণয়নে কাজ করছে। এই নীতির ভিত্তি হবে মানবাধিকার, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। প্রযুক্তির উন্নয়ন যেন মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং কেউ যেন এর সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‎তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডেটা প্রটেকশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া টেকসই ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্ভব নয়।’

‎মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধানের সমন্বয়ে কাজ করছে। একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

‎চীন সরকারের অর্থায়নে বিশ্ব ইন্টারনেট কনফারেন্স (WIC) বা ‘উঝেন সামিট’ (Wuzhen Summit) সচিবালয় আয়োজিত এই সিল্ক রোড ফোরামটিতে উপস্থিত ছিলেন চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতারা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (WHO) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও চীনা গ্লোবাল মিডিয়া আউটলেটগুলোর বরাতে জানা যায়, বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর আওতায় স্বাস্থ্যখাতকে ডিজিটালাইজড করার অন্যতম প্রধান মাইলফলক এই ‘ডিজিটাল হেলথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’।

‎২১-২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, রাশিয়া, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর