খায়রুল খন্দকার ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:
কথিত স্ক্যামারের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক হাদী চকদার ও আরিফুজ্জামান তপুর বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলা গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ও দৈনিক দেশের কণ্ঠ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি খায়রুল খন্দকার, সংগঠনটির সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শিপন মিয়া এবং ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মাসুদুল হক মাসুদ, আবদুল্লাহ এবং বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি রাজু আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিক।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার ঘটনা তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্যচিত্র ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। হাদী চকদার ও আরিফুজ্জামান তপুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য গত ১০ অক্টোবর ডিজিটাল প্রতারক মাহিন ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং০৯। মোকাম টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ জুডিঃ ম্যাজিঃ ভূঞাপুর থানা আমলী আদালত জি,আর ১৩৫/২০২৬। মামলাটি ধারাঃ ১৪৩/৩৪২/৩৬৫/৩৮৪/৩৮৬/৩৮৯/৩৪ পেনাল কোড ধারা মোতাবেক রুজু করেন। সরেজমিনে জানা যায়, বাদী মাহিন সহ আরো দুই জন সহযোগী নিজাম ও শাকিল মিয়া দীর্ঘদিন যাবত দেশে এবং দেশের বাহিরের প্রবাসী বাঙালি সহ বিদেশি নাগরিকদের সাথে ডেটিং এ্যাপস এর মাধ্যমে বড় ধরনের স্ক্যামিং করে আসছে। যার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে সোশাল মিডিয়া। আর এই প্লাটফর্ম কে অপব্যবহার করে মেয়ে সেজে অনৈতিক মেলামেশার প্রলোভন দেখিয়ে ডেটিং সাইটের মাধ্যমে এই প্রতারণা সাধারণত করে যাচ্ছে। মূলত ডিজিটাল তিন প্রতারক পূর্ব ভূঞাপুর তাদের এক বন্ধুর ঘরোয়া বিয়ের অনুষ্ঠানে আসে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলমান অবস্থায় তারা গোপনে ভিডিও ছবি ধারণ করার চেষ্টা করে।এক পর্যায়ে তাদের ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোনের স্কিনে ভেসে আসে পর্নগ্রাফির মত ছবি। তখন সন্দেহের সৃষ্টি হয় সেই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জান তপু মাহিন কে জিজ্ঞাসা সহ মোবাইলের বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম গুলো দেখাতে বললে তারা তাদের স্ক্যামিং এর সকল তথ্য তুলে ধরেন ও স্বীকারোক্তি দেন। আর সেই স্বীকার উক্তির প্রমাণ স্বরুপ ভিডিও ধারণ রেখে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রতারক চক্ররা তাদের অপকর্ম গুলো ঢাকার জন্য মিথ্যা ভিত্তি হীন মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণের তথ্য অনুযায়ী ০১৬২০৯৩৬৩৪৩ নগদ একাউন্ট ও ব্যাংক একাউন্ট নং ২৩৮১৫৭০৫৬৯৪৬৬ মাঝে যে লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি সাংবাদিক হাদি চকদার ও আরিফুজ্জান তপুর নয়। ডিজিটাল প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।