শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

জেনে নিন নারীর সর্বোচ্চ কতবার সিজার করা নিরাপদ?

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
  • ২৮১ সময় দেখুন
জেনে নিন নারীর সর্বোচ্চ কতবার সিজার করা নিরাপদ?


ইউনাইটেড নিউজ২৪ ডেস্ক ::

সৃষ্টির সময়কাল থেকে চলে আসছে—নারী সন্তান গর্ভধারণ করবেন, নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম দেবেন। শারীরিক গঠনপ্রণালির মধ্যেই সেই রহস্য রয়ে গেছে, অর্থাৎ কীভাবে সন্তানের জন্ম হবে। দেশ-কাল-পাত্রভেদে যুগে যুগে এই ধারাকে বহন করে নারী তাঁর এই মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন অথবা নানা রকমের জটিলতা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশের নারীর শারীরিক গঠন এক রকমের নয়, সেই কারণে সব দেশের জটিলতাও এক রকমের নয়। তবু জটিলতা থেকে মুক্ত করার জন্য স্বাভাবিক প্রসবের বাইরে বিজ্ঞান একটি অন্য পথ বের করতে সক্ষম হয়েছে। এটি নারীকে জীবনের জটিলতা থেকে মুক্ত করার জন্য, তাঁকে জটিলতায় ফেলার জন্য নয়।

যদি আপনার সুস্থ বাচ্চা থাকে, তাহলে দুটি বাচ্চা সিজারে নিয়েছেন যথেষ্ট। বাচ্চা ছেলে না মেয়ে এর মধ্য দিয়ে কিন্তু সন্তানের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. দীনা লায়লা হোসেন।

তিনি বলেন, হয়তো আপনার বাচ্চার সমস্যা রয়েছে কিংবা আপনার এটা দ্বিতীয় বিয়ে- এ সকল ভিন্ন গ্রাউন্ডে যদি বাচ্চার প্রয়োজন হয়, তবে তিনবার, চারবার কিংবা পাঁচবার পর্যন্ত সিজার করা যায়।

প্রতিবার সিজারের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি কিন্তু বাড়ে। সিজার করলে সাধারণত কী হয়? একটা জায়গা কাটা হয়। বাচ্চাটাকে বের করা হয় কেটে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দ্বিতীয় বাচ্চাটা যখন আসবে, জরায়ু যখন বড় হতে থাকবে, তখন কাটা জায়গাটাতে টান পড়ে।

এক্ষেত্রে সিম্পটম অনুসারে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। বড় সমস্যা হলো জরায়ু ফেটে যায়। এক্ষেত্রে বাচ্চার জীবন যায়, মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

একবার সিজার হলে, পরবর্তীতে সিজারে ডেলিভারির আশঙ্কা বাড়ে। প্রথম বাচ্চা সিজারে ডেলিভারি হওয়ার পর, পরেরটার নরমাল ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা কমে।

সিজারের ক্ষেত্রে মায়ের রক্ত নিতে হয়। রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়ে। সব থেকে বড় বিপদ হচ্ছে, গর্ভফুল। জরায়ুর মুখের দিকে বাচ্চা থাকে। জরায়ুতে ফুল থাকে। যখন সিজার করা হয়, তখন দেখা যায় কাটা জায়গাটায় ফুলটা বসে। মুহূর্তের মধ্যে অনেক রক্ত বের হয় মায়ের। তখন মাকে বাঁচানোর অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়।

অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সেবার প্রয়োজন হয়। অনেকেই ফিরে আসেন না আইসিইউ থেকে। এজন্য আপনাদের জন্য বলবো, এক্ষেত্রে কেবল প্রয়োজন হলে বাচ্চা নেবেন।

প্রয়োজন ছাড়া কখনোই সিজার করা ঠিক না।এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যকর্মী/নার্স/মিডওয়াইফ, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক মালিক—সবারই যৌথভাবে বসে কাজ করা প্রয়োজন।আমরা চাই সারা জীবনের নিরাপত্তা, একটি সুস্থ মা, সুস্থ নবজাতক, স্বাভাবিক পরিবেশ। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সংগঠন, সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, নার্সিং, মিডওয়াইফদের সংগঠন—সবাই মিলে আসুন আমরা এই অবস্থার অতি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে আসি এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনকে ‘না’ বলি।

Print Friendly, PDF & Email



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর