শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৈলাসঘোনায় কর্মবীর সংস্কার কল্যাণ সংস্থার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: ৬৭০ জন রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া ও খাবার বিতরণ কালিয়াকৈর কোরবানি তিন দিন পার হলেও অপসারণ করা হয়নি কোরবানির বর্জ্য নাগরপুরে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে কালিয়াকৈরে হাজারো মানুষের ঢল-দোয়া, আলোচনা ও বস্ত্র বিতরণ জিয়ার শাহাদাৎবার্ষিকী একাত্তরের মার্চের বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করল ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন IPL 2026 Orange Cap and Purple Cap after Qualifier 2: Sooryavanshi stays on top, Rabada surges ahead | Cricket News জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী আজ বর্ষাকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঢাবি ছাত্রদলের Kiara Advani Was Asked Not To Say ‘Hi, Hello’ On Toxic Set; Padmini Kolhapure Backs Ranveer Singh Amid Don 3 Row | Bollywood News

এবারের রমজানে তুলনামুলক হারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কম

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫
  • ৮৫ সময় দেখুন


ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

বিগত বছরের তুলনায় এবারের রমজানে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। এ বছর তারা বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বিশেষ করে কাঁচাবাজার ও মুদিখানার জিনিসপত্র সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্যে পাচ্ছে।

আজ সকালে কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও তালতলা বাজার, ফকিরাপুল বাজার, মতিঝিল এজিবি কলোনি কাঁচা বাজার ও শান্তিনগর বাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা বাজার পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, ক্রেতারা সাধারণত তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের যা প্রয়োজনীয়, সেসব দ্রব্য ও পণ্য পাচ্ছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কঠোর বাজার তদারকি এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে চিনি, ডাল, খেজুর, পেঁয়াজ, শসা, আলু, টমেটো, ডিম, রসুন, কাঁচা মরিচ, শুকনো মরিচ, আদা ও ইসবগুলসহ বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ২০২৪ সালের রমজানের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নিয়েছে।

তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে- সরিষার তেল, ময়দা, সুজি, মসুর ডাল, এলপিজি, বিস্কুট, লবণ ও গরম মশলা। এই পণ্যগুলোর উৎপাদন পর্যায়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পর্যায়ে ভ্যাট রেয়াত দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব বোর্ড খেজুর, চাল, ডাল, চিনি ও তেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক শূন্যে নামিয়ে এনেছে।

সরকারি পদক্ষেপের প্রশংসা করে খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান বলেন, সরবরাহ প্রচুর থাকায় বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম সন্তোষজনক।

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় আমার বাড়ির কাছে তালতলা বাজার থেকে কেনাকাটা করি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই রমজানে সবজির দাম কম থাকায় সবাই স্বস্তি পেয়েছে।’ সুফিয়ান আরো বলেন, মাছ, মাংস ও মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, খামারের মুরগি প্রতি কেজি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালী ৩০০-৩১০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১০-৩০ টাকা কম। খাসি (মাংস) প্রতি কেজি প্রায় ১১০০ টাকা ও গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে- যা আগের বছরের তুলনায় ৩০-৫০ টাকা কম।

অন্যদিকে, চিনি প্রতি কেজি ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।

সাধারণ খেজুরের দাম ২২০-২৫০ টাকা থেকে কমে ১৮০-২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি মানের ও প্রিমিয়াম মানের খেজুর যথাক্রমে ৪৫০-৮০০ টাকা ও ১,০০০-১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় ৩০-২০০ টাকা কম।

স্থানীয় পেঁয়াজ এখন ৪০-৪৫ টাকায় প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে- যা গত বছরের ১০০-১২০ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

আলু ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ছিল ২৫-৩৫ টাকা। এছাড়াও, শীতকালীন সবজির দাম গত রমজানের তুলনায় ৫-২০ টাকা কেজি কমেছে।

মতিঝিল এজিবি কলোনির কাঁচা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মহসিন বলেন, সরকারের যথাযথ ও সক্রিয় তদারকি কার্যক্রমের কারণে দাম আগের বছরের তুলনায় কম।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখানে ক্রয়-বিক্রয় করি। খুব বেশি লাভ করার সুযোগ নেই। কৃষকরাও মোটা অঙ্কের মুনাফা পাচ্ছে না। মূলত, বড় সিন্ডিকেট মুরগির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। যারা দিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন করে ও মুরগির খাবার দেয়, তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার যদি সিন্ডিকেটগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে।’

স্থানীয় রুই (১.৫ থেকে ২ কেজি জীবিত) ৩০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি করা রুই (২ থেকে ৩ কেজি) ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফকিরাপুল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে রমজান আসার সাথে সাথে মাছের চাহিদা বেড়েছে।

তালতলা বাজারে সেনবাগ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তারেক বলেন, সরবরাহ প্রচুর হওয়ায় বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম সন্তোষজনক।

মতিঝিল এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বছর পেঁয়াজ, আলু, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও ডিমের দাম ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত।

সরকারের কঠোর নজরদারি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রেখেছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে। সরকারের তিনটি নিবেদিতপ্রাণ দল ঢাকা মহানগর জুড়ে সর্বক্ষণ বাজার পর্যবেক্ষণ করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জেলা ও ঢাকা মহানগর প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পণ্য বাজার পর্যবেক্ষণ করছে।

এছাড়াও, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) বাজারের ওপর কড়া নজর রাখছে, যাতে করে অতিমুনাফার জন্য অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে অস্থির ও অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom