স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সবগুলো দফতর ভাংচুরের পাশাপাশি হিসাব শাখায় লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন।
ঘটনার চার দিন পর সোমবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যে নগ্ন চিত্র দেখলাম, এটা বাংলাদেশে নজিরবিহীন। পৃথিবীতে এ রকম নজির নাই। এই ধরনের ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধেও হয়নি। কার্যালয়ে আমাদের চেয়ারপারসনের অফিসের দরজা ভেঙে ভেতরে সবকিছু তছনছ করা হয়েছে। হিসাব শাখা লুটপাট করা হয়েছে।’
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘বিজয়ের মাসে জাতীয়তাবাদী দলের অফিস পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনী তছনছ করেছে। লুটপাট করেছে। লন্ডভন্ড করেছে। নগ্নভাবে সন্ত্রাস করেছে। তারা নজিরবিহীন বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে।’
ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কার্যালয়ের দোতলায় চেয়ারপারসনের অফিস বন্ধ থাকে। সে অফিস দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে তছনছ করেছে। যত ছবি ছিল ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তিনতলাও তছনছ করেছে। এখান থেকে আমাদের সব উপকরণ- কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, ফাইলপত্রসহ সব নথিপত্র তারা নিয়ে গেছে।’
এ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব অফিস থেকে কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, টেলিভিশন, প্রিন্টার নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করে এর বড় প্রমাণ আর কিছু নেই। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এ ধরনের আচরণ কোনো সরকার করতে পারে—এটা কেউ বিশ্বাস করবে না’
‘বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেই। এখানে যেটা রয়েছে, তা জঙ্গলের সরকার’- বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘অপারেশন সার্চ লাইট ২৫ মার্চ, একাত্তরের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও মনে হয় হার মানায়। এটা স্রেফ মানবাধিকার লঙ্ঘন।’
হিসাব শাখা থেকে কী পরিমাণ নগদ অর্থ লুট হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর গতকাল প্রথম বারের মতো আমাদের ভারপ্রাপ্ত অফিস সেক্রেটারি কার্যালয়ে এসেছিলেন। আজ আমরা এসেছি। সব হিসাব-নিকাশ শেষে আপনাদের (মিডিয়া) মাধ্যমে আমরা দেশবাসীকে অবহিত করব।’
‘আর আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আমরা এখনো আলোচনা করিনি। পরবর্তীতে হয়তো এ বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে’- বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নাজিম উদ্দীন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, আকরামুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক প্রমুখ।
সারাবাংলা/ এজেড