বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

মাত্র তিন টাকার বিদ্যুৎ খরচে ঘণ্টায় ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন!

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১
  • ২৭৫৯ সময় দেখুন
মাত্র তিন টাকার বিদ্যুৎ খরচে ঘণ্টায় ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন!


৬০০ লিটার অক্সিজেন! তাও কিনা ৩ টাকায়! 

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।

৬০০ লিটার অক্সিজেন এখন উৎপাদন করা যাবে মাত্র ৩ টাকার বিদ্যুতে। এ প্রযুক্তির উদ্ভাবক বগুড়ার যন্ত্র প্রকৌশলী মাহমুদুন্নবী বিপ্লব। আর তাঁর উদ্ভাবনের নাম “কেআর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর”। তাঁর মতে, এ যন্ত্র দিয়ে মাত্র তিন টাকার বিদ্যুৎ খরচে প্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন করা যাবে ৬০০ লিটার অক্সিজেন। সে অনুপাতে প্রতি লিটার অক্সিজেন উৎপাদনের খরচ মাত্র ০.০০৫ পয়সা

 

করোনাকালে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটি হল অক্সিজেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখার পর বাংলাদেশেও অক্সিজেনের ঘাটতি সেই ভয়ানক সম্ভাবনার চিত্রকে সামনে নিয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর এমন আবিষ্কারের আলোড়ন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। 

 

মাহমুদুন্নবীর উদ্ভাবিত এ যন্ত্র থেকে একই সময়ে পাঁচজন করোনা রোগী পুরোপুরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারবে। আর প্রয়োজনে এ যন্ত্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানো যাবে। ইতোমধ্যে যন্ত্রটি বাংলাদেশ সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) বিভাগে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। সেখানে এটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

আমাদের বায়ুমণ্ডলের বাতাসে ৫ ভাগের মধ্যে ১ ভাগই অক্সিজেন। তবে করোনা আক্রান্ত রোগীরা এই অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। আর করতে পারলেও তা শ্বাসকার্যের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই রোগীর প্রয়োজন হয় সিলিন্ডারজাত অক্সিজেনের। আর কারখানায় তৈরি অক্সিজেন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, ও এতে খরচের পরিমাণও বেশি। এক্ষেত্রে মাহমুদুন্নবীর তৈরী এ যন্ত্র এতো অল্প সময় আর কম খরচে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন উৎপাদন করে করোনা রোগীর অক্সিজেন স্বল্পতা দূর করতে সক্ষম হবে।

 

মাত্র তিন টাকার বিদ্যুত খরচে ঘণ্টায় ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন!

মাত্র তিন টাকার বিদ্যুত খরচে ঘণ্টায় ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন!

মাহমুদুন্নবী জানান, তাঁর তৈরি যন্ত্রটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উপাদান দিয়ে তৈরি। সাথে সাথে তা খরচে কম, সহজলভ্য এবং পোর্টেবল। আর প্রয়োজনে বাসাবাড়ি, অফিস, হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ যেকোনো স্থানে এই যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। 

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, বাতাস থেকে যন্ত্রটি ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ বিশুদ্ধ অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম। তাঁর এই যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে মৃদু শব্দের কম্প্রেসর, কপার টিউব, ডাস্ট ফ্রি এয়ার ফিল্টার, হাইপ্রেসার কন্ট্রোলিং ডিভাইস এবং ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দিয়ে দূর থেকে যন্ত্রটি চালানোর জন্য আইওটি বেইস মনিটর।

 

মাহমুদুন্নবী আরও জানান যে, তাঁর এই যন্ত্রে তিনি আন্তর্জাতিক মান সংস্থা “আইএসও”বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব ব্যবহারবিধি ও নির্দেশিকা অনুসরণ করে তৈরি করেছেন। প্রয়োজনে যন্ত্রটি সর্বোচ্চ ১০০ জনের সেবা দেওয়ার মতো করে তৈরি সম্ভব। এটি ৫৫০ ওয়াট বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত অক্সিজেন প্রবাহ, অর্থাৎ, ৯২ শতাংশের ওপরে বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদি কোনো করোনা রোগীকে এই যন্ত্রের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হয় তাহলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসবে।

 

মাহমুদুন্নবী জানান যে, তার এই মেশিনটি একেবারে আধুনিক। একটি মোবাইল সফটওয়্যারের মাধ্যমে দূর থেকে এটির সব অপারেটিং সিস্টেম তদারকি করা সম্ভব। 

বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেট্রনিকস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আমিনুর ইসলাম জানান যে, “করোনার এই দুর্যোগে আধুনিক এ যন্ত্রটি সব শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করতে পারবে। কারণ এর ব্যবহার খরচ একেবারেই কম”

 

করোনার এমন ক্রান্তিকালে মাহমুদুন্নবী তাঁর উদ্ভাবনার দ্বারা যে বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন, তা এই শোচনীয় অবস্থায়ও মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে বিশাল ভূমিকা পালন করবে বলেই আমরা আশা করছি।

এমনই আরও প্রয়োজনীয় ব্লগ পড়ে নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখতে এখানে ক্লিক করুন। 


লেখক-

সাদিয়া হুমাইরা

কন্টেন্ট রাইটিং ইন্টার্ন, YSSE



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom