যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদ আপগ্রেডেশন নিয়ে জটিলতা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে বিভাগের শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষকদের পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির পাশাপাশি সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশেও। বর্তমানে বিভাগে একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। এরই মধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিভাগীয় নিয়োগসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২৪ মে ২০২২ তারিখে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে সহযোগী অধ্যাপক পদে সাক্ষাৎকারসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ৯৬৮/২০২৩ দায়ের করা হয়। রিটের বিষয়বস্তুতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ ও সাক্ষাৎকারসংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিভাগের শিক্ষক সংকটও তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২টি অধ্যাপক এবং ৩টি সহযোগী অধ্যাপক পদসহ মোট ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এদিকে বিভাগের ৭ জন শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও এখনো পদোন্নতি পাননি বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা ও চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রমও দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ড. মো. হুমায়ুন কবির সাক্ষাৎকারের কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পরবর্তী পদোন্নতি কার্যক্রমেও পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দাবি করেন।
শুধু সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্য শিক্ষকরাই নন, বিভাগে কর্মরত প্রভাষক পর্যায়ের শিক্ষকরাও পদোন্নতি ও পদ আপগ্রেডেশন না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, শূন্য পদে পদোন্নতির মাধ্যমে পদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষকদের ক্যারিয়ার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়াতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে তারা মনে করেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্থায়ীকরণ না হওয়ায় উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডিতে যাওয়ার সুযোগও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও পেশাগত উন্নয়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রিকমেন্ডেশন লেটার পেতে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ সময় ও সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিয়োগ, পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকটের বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান না হলে বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক অগ্রগতি আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা নিরসন, শূন্য পদ পূরণ, যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পদ আপগ্রেডেশন এবং বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের এসব জটিলতার দ্রুত সমাধান হলে শিক্ষক সংকট কমার পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক পরিবেশেও গতি ফিরবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া না।