শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন

সংস্কৃতি চর্চায় তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ১৪৭ সময় দেখুন
সংস্কৃতি চর্চায় তরুণদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের


জবি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সংগীত মানুষের আত্মিক বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী পঞ্চম রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সংগীত মানুষের আত্মিক ও মৌলিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার প্রতিটি স্তরেই সংগীতের গভীর প্রভাব রয়েছে। বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অবদান চিরন্তন। তারা আমাদের জাতীয় জীবনের আইকন। তাদের সাহিত্য ও সংগীত নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হবে।’

নিজের কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রতি গভীর অনুরাগের কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পান, সে বিষয়ে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি জাতির সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে তরুণদের সংস্কৃতি চর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ সংস্কৃতিমনা প্রজন্মই একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিতে পারে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত উৎসবের সমাপনী দিনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সংগীতকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হয় ‘নজরুল-পর্ব’।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন। সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায়।

সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশের খ্যাতিমান নজরুলসংগীত শিল্পী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত পরিবেশন করেন। নজরুলের সাম্য, মানবতা, বিদ্রোহ ও প্রেমের চেতনাকে ধারণ করে পরিবেশিত সংগীত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আয়োজকরা জানান, উৎসবের প্রথম দিন ‘রবীন্দ্র-পর্ব’-এ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও সংগীতভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনের ‘নজরুল-পর্ব’-এর মাধ্যমে জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যবাদী চেতনা ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom