শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট
একুশ বছরে পা রাখলো রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০১ সালের আজকের দিনে (১৫ জুলাই) পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় রূপে প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিদ্যাপিঠ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে একুশ বছরের যাত্রা হলেও দেশের উচ্চতর কৃষি শিক্ষার প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩৮ সালে ‘দি বেঙ্গল কৃষি ইনস্টিটটিউট’ নামে।
প্রতিষ্ঠার সূচলনালগ্ন থেকেই দেশের কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি গবেষণার যথাযথ প্রচার ও প্রসারে তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানী তৈরির মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি অনুষদে ও একটি ইনস্টিটিউটের অধীনে অধ্যয়নরত আছেন প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সমূহের অধীনের তিন শতাধিক শিক্ষক পাঠদান ও সংশ্লিষ্ট গবেষণায় নিয়োজিত আছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নির্মাণাধীন দুটি সহ মোট সাতটি আবাসিক হল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণা কর্মের মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধি সাউ টমাটিলো এর দুইটি জাত। রয়েছে সরিষার তিনটি উন্নত জাত সাউ সরিষা-১, সাউ সরিষা-২ ও সাউ সরিষা-৩। বিদেশি ফুলের পরিবেশ সহিষ্ণু জাত ‘নন্দিনী’। রসুনের বিকল্প ‘বিডি নিরা’, প্রাণীদেহে অনুজীবঘটিত রোগবিষয়ক সগফল গবেষণা। নতুন তেল জাত ফসল ‘সাউ পেরিলা’। এছাড়াও রয়েছে সুপারফুড ‘সাউ কিনোয়া-১’। সম্প্রতি দেশের সমুদ্রসীমা থেকে গিটারফিশের নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকগণ। পাশাপাশি কৃষি উদ্যোক্তা বৃদ্ধির জন্য বায়োফ্লক ও ‘স্পিরুলিনা’ এর সহজ প্রোডাকশন টেকনোলজি আবিষ্কার ও প্রশিক্ষণ।
তবে মহামারি পরিস্থিতিতে শুধু কৃষি গবেষণা নয়, চিকিৎসকদের জন্য ফেসশিল্ড তৈরি করেছে ‘সাউ ফ্যাবল্যাব’।
বিশ্ববিদ্যলয় দিবসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে অনলাইনে পরীক্ষাগুলো শুরু হওয়ায় হয়ত সেশনজট কিছুটা কমতে পারে। তবে আবাসিক হল খুলে সেশন ভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া যেত। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ক্লাসরুম সঙ্কট, অনুষদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা, ভেটেরিনারি ক্লিনিক নেই, গবেষণাকাজে পুরোনো যন্ত্রপাতি ব্যাবহারসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল সমস্যা দূর করার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম গুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়াও মহামারির কারণে সৃষ্ট সেশনজট কমানোর লক্ষ্যে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজকের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের প্রতি আমার আহ্বান যেন সকলেই আমরা ভেদাভেদ ভুলে কাজ করে নিজেদের দক্ষ করে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
সারাবাংলা/এএম