বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কর্ণফুলী জামায়াতের উদ্যোগ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। নাগরপুরে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন কর্ণফুলীতে অবৈধ ও ময়লাযুক্ত তেল মজুদের দায়ে ৫০ হাজার জরিমানা জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভিসি-প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি রয়টার্সের প্রতিবেদন ইরান প্রশ্নে ট্রাম্প সহায়তা চাইলেও অনিচ্ছুক থাকতে পারে চীন Vaibhav Sooryavanshi earns new fan in Kagiso Rabada: ‘There’s not an ounce of fear’ | Cricket News প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাবি’র আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন: আসিফ নজরুল কুতুবদিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয় করণ (৩য় পর্যায় প্রকল্প) ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্টিত। ভূঞাপুরে এক মাসের শিশু বাচ্চা কে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে দেওয়া হয় কুকুর কামড়ানোর ভ্যাকসিন

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবসে ‘নিষিদ্ধ’কে ভাঙার আহ্বান

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৫২৯ সময় দেখুন
মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবসে ‘নিষিদ্ধ’কে ভাঙার আহ্বান


লাইফস্টাইল ডেস্ক

ঢাকা: মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবসে নারীর মাসিক নিয়ে সমাজের প্রচলিত ট্যাবু ভাঙার আহ্বান জানিয়েছে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম (নাসাসু)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারীদের লেখা প্রথম মাসিকের অভিজ্ঞতা, মাসিক সুরক্ষা পণ্যের দাম কমানো এবং মাসিক নিয়ে সমাজের প্রচলিত ট্যাবু বিষয়ক বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শনও করেছে ফোরামটি। একইসঙ্গে দেশের নারীদের নিরাপদ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় ৭ দফা দাবি পেশ করছে।

শুক্রবার (২৮ মে) বিকেল ৩টায় বিশ্ব মাসিক ব্যবস্থাপনা দিবস উপলক্ষে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম (নাসাসু) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষ এক উন্মুক্ত প্রদর্শনী থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।

এক সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম বলছে, প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা ফার্মেসিতে যেতে লজ্জা পাওয়ার কারণে, পরিবারের অসহযোগিতার কারণে এবং বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে মাসিক সুরক্ষা পণ্য ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছে। ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইন সমীক্ষা অনুযায়ী, মাত্র ১০ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া কিশোরী তাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে।

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবসে ‘নিষিদ্ধ’কে ভাঙার আহ্বান

সমীক্ষায় বলা হয়, ৮৬ শতাংশ কিশোরী পুরানো কাপড়, ছেঁড়া ন্যাকড়া ব্যবহার করে। এর মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ মেয়ে সঠিক নিয়ম মেনে কাপড় ব্যবহার করে। বাকিরা ঘরের কোণায় কাপড় রাখে যা সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করার আগেই ফের ব্যবহার করে।

সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, এমনকি বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের যারা ঘরে থাকেন এবং কর্মজীবী নন, তাদের মধ্যে স্যানিটারি ব্যবহারের প্রবণতা মাত্র ১২ শতাংশ। দীর্ঘদিন অপরিষ্কার কাপড় ব্যবহারের ফলে নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসার, ইনফেকশন, যৌনাঙ্গে ঘা, চুলকানি, অস্বাভাবিক সাদাস্রাব প্রভৃতি শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। দেশে প্রতিবছর ১৩ হাজার নারী মারা যাচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যানসারের কারণে। তাছাড়া একই কাপড় বারবার ব্যবহারের ফলে কাপড় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব না। তা ছাড়াও কোনো মেয়ে যদি সঠিক নিয়ম মেনে (গরম পানিতে ফুটিয়ে, কড়া রোদে শুকিয়ে) কাপড় ব্যবহার করতে চান, সেটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং যেকোনো নারীর জন্য সেটি অত্যন্ত ঝামেলার।

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবসে ‘নিষিদ্ধ’কে ভাঙার আহ্বান

নাসাসু বলছে, মাসিক সুরক্ষা পণ্যের (স্যানেটারি প্যাড, টেম্পুন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ) উচ্চ মূল্যের কারণে বেশিরভাগ নারীরা এসব সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। নাসাসু দেখেছে, প্রায় প্রতি বাজেটে মাসিক সুরক্ষার পণ্যকে ‘বিলাসী দ্রব্য’ বিবেচনা করে এর ওপর উচ্চ শুল্ক ও কর বসানো হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক সুরক্ষা বিষয়টি না দেখে তাকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া ক্ষমতার অধীনে দেওয়া হয়। এর ফলে নারীর মাসিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ শরীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে রীতিমতো পণ্যায়নের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। পাশাপাশি এর ওপর পিংক ট্যাক্স বসিয়ে এর মূল্য সাধারণ নারীর হাতের নাগালের বাইরে রাখা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার ফলে নারীর স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করার পথ সুগম করা হচ্ছে।

‘মাসিক সুরক্ষা একজন নারীর অধিকার’— এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে নাসাসু বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবস উপলক্ষে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক উন্মুক্ত প্রদর্শনীর কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কর্মসূচি থেকে নাসাসু যে সাত দফা দাবি পেশ করছে, সেগুলো হলো—

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবসে ‘নিষিদ্ধ’কে ভাঙার আহ্বান

১. বাজেটে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার খাত তৈরি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশসম্মত মাসিক সুরক্ষা পণ্য উৎপাদন করতে হবে;

২. বাজারে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দ্বারা উৎপাদিত মাসিক সুরক্ষা পণ্যের দাম কমাতে হবে;

৩. মাসিক নিয়ে সব ধরনের পণ্যায়ন বন্ধ করতে হবে। সব প্রকার পিংক ট্যাক্স দূর করে ব্যবসায়িক স্বার্থে উৎপাদিত জেল প্যাড ও ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে তৈরি মাসিক সুরক্ষা পণ্যের বাণিজ্যিকিকরণ বন্ধ করতে হবে;

৪. বিনামূল্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিকে নারীদেরকে প্রতি মাসে মাসিক সুরক্ষা পণ্য দিতে হবে;

৫. সব স্তরের নারীদের মাঝে ‘মাসিক সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতা’ ছড়িয়ে দিতে হবে;

৬. মাসিকের সময় ছুটি বিষয়টি প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের প্রশাসনিক নীতিমালায় যুক্ত করতে হবে; এবং

৭. করোনাকালীন ত্রাণ, দুর্যোগকালীন ত্রাণ ও রেশনে মাসিক সুরক্ষা পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজকরা জানান, নাসাসু ২০১৫ সাল থেকে প্রান্তিক নারী ও স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের মধ্যে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সচেতনতা নিয়ে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন কর্মসূচি, উঠান বৈঠক, কর্মশালার মাধ্যমে দেশের ১০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীদের মাসিক সুরক্ষা বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে ফোরামটি।

সারাবাংলা/আরএফ/টিআর





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom