আপনি যদি এখন মারা যান, আপনার পাশে এসে দাঁড়িয়ে থাকবে, এমন মানুষ কারা আছেন, আপনি একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন। তারাই হচ্ছে আপনার জন্য সবচাইতে দরকারি মানুষ। তারাই হচ্ছে আপনার বন্ধু। এর বাইরে আর কাউকেই মনে জায়গা দেবার কিছু নেই। যারা আপনার সাথে পড়াশোনা করেছে, তারা কিন্তু সবাই বন্ধু নয়, তারা স্রেফ ক্লাসমেট! আমরা বেশিরভাগ মানুষই ক্লাসমেটকে বন্ধু মনে করি! ক্লাসমেট সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমরা “বন্ধু” শব্দটা ব্যবহার করি। এটা সত্যিই বোকার মতো একটা ভুল! ক্লাসমেট আর বন্ধু ভিন্ন জিনিস। যে মানুষটা মৃত্যুর পরেও আপনার পাশে থেকে যাবে, সে-ই হচ্ছে বন্ধু।
যারা স্রেফ পরিচিত—বন্ধু নয়, জীবনে তাদের যত কম জায়গা দেওয়া যায়, ততই মঙ্গল।
যখন আমি ভালো কোনও কিছু খাই, তখন আমার বন্ধুদের কথা মনে পড়ে। মনে হয়, ইস্, তাদেরকে কিছু খাওয়াতে পারতাম! তাদেরকে দু-পিস দিতে পারতাম! যখন মিষ্টি খাই, তখন মনে হয় একপিস মিষ্টি বন্ধুকে দিতে পারতাম! ভালো একটা খাবার খেলে মনে হয়, তাকে যদি দিতে পারতাম! এরকমটা কিন্তু আমার মনে হয়। এবং আপনাদের বলি, আপনারা যদি এই ছোট্ট একটা মাইন্ড-এক্সারসাইজ করেন, তাহলে কারা আপনার বন্ধু আর কারা বন্ধু নয়, সহজেই জানতে পারবেন। এবং, নিশ্চিত থাকতে পারেন, যারা একবার আপনার বিপদে পাশে ছিল না, পরবর্তী বিপদেও আপনি তাদেরকে পাবেন না, তারা পাশে থাকবে না। এটাই নিয়ম! এটাই নিয়ম! এটাই নিয়ম! হ্যাঁ, আমি এটাই হতে দেখেছি। যে মানুষটা আপনার বিপদের দিনে পাশে থাকে না, তার প্রশংসায় কিংবা নিন্দায় আপনার সত্যিই কিছু এসে যায় না। আপনি বিপদে পড়লে যে মানুষটা গা বাঁচিয়ে চলে, তার দিকে কখনও ফিরেও তাকানোর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
তাই যাদেরকে আপনি বন্ধু বলে বলে সমানে চেঁচাচ্ছেন, তাদের সবাই আপনার বন্ধু নয়। যাদেরকে আপনি কাছের মানুষ বলে বলে খুশিতে চেঁচাচ্ছেন, তাদের সবাই আপনার কাছের মানুষ নয়। আপনি চোখটা বন্ধ করলেই দেখবেন, তাদের তেমন কেউই কোথাও নেই! তাদের মধ্যে যে দু-একজন আছে, তাদের কখনও ছাড়বেন না! আপনার জীবনে যা-ই আসুক না কেন, তাদেরকে আপনি দেবতার আসনে বসান, তাদেরকে দেবতার আসনে বসিয়ে পুজো করুন! তারা আপনার জন্য অনেক কিছু! এমনকী তারা যদি আপনাকে দুটো গালমন্দ করে, আপনার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারও করে, আপনার সম্পর্কে বাজে কথাও বলে, তার পরেও তাদেরকে অন্ধের মতো করে ভালোবাসুন। ভুল মানুষের কাছ থেকে স্যালুট পাবার চাইতে বরং ঠিক মানুষের চড় খাওয়া ভালো। তারা সেটা ডিজার্ভ করে, কেননা যখন আপনি মারা যাচ্ছিলেন, ডুবে মরছিলেন, তখন তারা পাশে ছিল। যখন আপনি চরম বিপদে পড়েছিলেন, তখন তারা পাশে ছিল। তাদেরকে কখনও ভুলবেন না। তাদের নিজের সবটুকু দিয়ে দিন। অনেক আনন্দ আছে এতে। বেঁচে থাকার মধ্যে একধরনের আনন্দ পাবেন।
এ পৃথিবীতে সবচাইতে আনন্দের বিষয়টি হচ্ছে: কৃতজ্ঞ হতে জানা। কৃতজ্ঞ হতে শিখুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগছে আপনার! অকৃতজ্ঞ সিংহ হয়ে গর্জন করার চাইতে কৃতজ্ঞ কুকুর হয়ে পা চাটাও অধিক সম্মানের ও স্বস্তির।