সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় ২০২৬ সালে নতুন করে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছেন। জেলার চার উপজেলায় এসব রোগী চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা খ্রিষ্টান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে সিএসএস এ তথ্য জানায়।
সিএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শনাক্ত ৪১ রোগীর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৬ জন, আশাশুনিতে ১৪ জন, সাতক্ষীরা সদরে ছয়জন এবং শ্যামনগরে চারজন চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া একজনের চিকিৎসা শেষ হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় ২০১৯ সালে কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছিল দুইজন। এরপর ২০২০ সালে ১২ জন, ২০২১ সালে ২৯ জন, ২০২২ সালে ৫০ জন, ২০২৩ সালে ৪৯ জন, ২০২৪ সালে ৬৮ জন এবং ২০২৫ সালে ৬০ জন রোগী শনাক্ত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশ টিভির সাতক্ষীরা স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি ছিলেন খ্রিষ্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) পরিচালক (স্বাস্থ্য) সাজ্জাদুর রহিম পান্থ।
অনুষ্ঠানে সাজ্জাদুর রহিম পান্থ বলেন, ‘কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ। প্রাচীনকাল থেকেই কুষ্ঠ নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, কুষ্ঠ কোনো অভিশাপের ফল বা পাপের কারণে হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কুষ্ঠ তেমন কোনো রোগ নয়। এসব ভুল ধারণা ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নেন না। আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, সারা বাংলাদেশেই এখনো কুষ্ঠ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আমরা ২০১৩ সাল থেকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আসছি। এখনো এসব এলাকায় কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুষ্ঠরোগের ক্ষেত্রে শরীরে অনুভূতিহীন দাগ, ত্বকের অনুভূতি কমে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা স্নায়ুর সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগী সুস্থ হতে পারেন। চিকিৎসায় বিলম্ব হলে স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চ্যানেল-২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জি, মানবজমিনের এসএম বিপ্লব হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, সমকালের কিশোর কুমার, চ্যানেল ওয়ানের নাজমুস শাহাদাত জাকির, স্বদেশ প্রতিদিনের হাবিবুর রহমান সোহাগ, টাইমস টুডের মিলন বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, বার্তা২৪-এর মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরা সকালের আলতাব বাবু, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল ও সিএসএসের শরিফুল ইসলাম।
ওরিয়েন্টেশন পরিচালনা করেন সিএসএসের প্রজেক্ট অফিসার খালেকুজ্জামান।