মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

‘স্প্লেনডিড ইম্পেরিয়াল কমপেনসেশন’—ঢাবি পেরোলো ১০০ বছর

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ৩৬১ সময় দেখুন
‘স্প্লেনডিড ইম্পেরিয়াল কমপেনসেশন’—ঢাবি পেরোলো ১০০ বছর


ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘স্প্লেনডিড ইম্পেরিয়াল কমপেনসেশন’। শত বছর আগে কথাটি বলেছিলেন লর্ড লিটন। বঙ্গভঙ্গ রদ নিয়ে উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন তখনো উত্তপ্ত। ঠিক সেই সময়ে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে স্থাপন করা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অনেকটা বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবেই৷ তারই পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ লর্ড বলেছিলেন এই কথা।

তারপর কেটে গেছে একটি শতাব্দী। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এখনো সটান দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নানা লড়াই-সংগ্রামের বাঁক পেরিয়ে সেটি পূরণ করল ১০০ বছরের মাইলফলক। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার মান আর রাজনৈতিক পাকেচক্রে জড়িয়ে শিক্ষার পীঠস্থান হিসেবে জৌলুস হারালেও শত বছরের পথপরিক্রমার অর্জন ‘স্প্লেনডিড’ বটে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) দেশের প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠ পা দিয়েছে ১০১ বছরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হওয়ার সত্ত্বেও বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের বাগড়ায় উদযাপনের মাত্রায় রাখতে হয়েছে কমতির আক্ষেপ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আজ (১ জুলাই) সীমিত পরিসরে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ এ দিবসটি উদযাপন করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে নানা আয়োজনের মাধ্যমে শতবর্ষের বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ মূল অনুষ্ঠান আগামী ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে করার পরিকল্পনাও জানিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করতে না পারার আক্ষেপ শোনা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মুখে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান রুহান বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পেরিয়ে ১০১ বছরে এসেছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই এই দিবস ক্যাম্পাসে থেকে বন্ধু-সহপাঠীদের উদযাপনের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সেটি হতে দিচ্ছে না। আমি মনে করি, দেশ ও দশের স্বার্থে এই না পাওয়াটুকু মেনে নেওয়া একটু কষ্টের হলেও স্বস্তির।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিরুপমা ফারজানা বলেন, ‘এই দিনটি অবশ্যই বিশেষ। ক্যাম্পাসে থাকতে পারলে বেশ স্মৃতিময় দিন হতো। না চাইতেও এই দিনটিতে ক্যাম্পাসে থাকা হচ্ছে না। তবে নভেম্বরে যেহেতু মূল আয়োজন, সেই সময় করোনাবিহীন নতুন এক সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা করি।’

একই আক্ষেপ রয়েছে ঢাবি’র সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। এখানে শিক্ষাজীবন শেষ করে সাবেকে পরিণত হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে যে এই ঢাবি এখনো প্রাণের ক্যাম্পাস। শতবর্ষ পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণটিতে তাই ক্যাম্পাসভিত্তিক আড্ডা-আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল তাদের অনেকেরও। বাস্তব কারণেই সেটি না হওয়ায় বেদনাহত তারা।

ঢাবি’র ফলিত পদার্থ, তড়িৎ কণা বিদ্যা ও যোগাযোগ প্রকৌশল (আধুনা তড়িৎ কণা বিদ্যা ও তড়িৎকৌশল তথা ট্রিপল ই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান এখন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। জানালেন, স্বাভাবিক সময়ে হলে নিশ্চয় বন্ধুদের সঙ্গে এই দিনটি কাটাতেন ক্যাম্পাসেই। সেটি পারছেন না বলে ঢাবি প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী এখন অপেক্ষা করছেন নভেম্বরের।

মাত্র তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী ও তিনটি আবাসিক হল নিয়ে ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছিল। শত বছর শেষে বিশ্ববিদ্যালয়টি কলেবরে বেড়েছে। বর্তমানে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ১৯৮৬ জন শিক্ষক, প্রায় ৪৭ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১৯টি আবাসিক হল ও চারটি হোস্টেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে আছে প্রায় দেড় শতাধিক বিভিন্ন একাডেমিক ঘরানার অধিভুক্ত/উপাদানকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শতবর্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সারাবাংলা ডটনেটকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পেরিয়ে ১০১ বছরে পদার্পণ করেছে। এই বিষয়টি আনন্দের ও গর্বের। শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ ও বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ গণতান্ত্রিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা প্রমাণ করে, সেই লক্ষ্য বৃথা যায়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পেরোনো এই দিনে উপাচার্য দেশ ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে প্রিয় মাতৃভূমি ও গণমানুষের প্রতি আমাদের অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, চিরগৌরবময় মুক্তিযুদ্ধসহ গণমানুষের সকল লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশ সেবায় রেখেছে অনন্য অবদান। দেশের প্রতি আমাদের মমত্ববোধ ও চিরকৃতজ্ঞ চিত্তই এগিয়ে চলার পাথেয়। ইনশাল্লাহ, আমরা এগিয়ে যাবই।’

সারাবাংলা/আরআইআর/টিআর





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর