বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নাগরপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান মেলা ও অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত RR vs MI, IPL 2026: Rajasthan Royals climb to No.1 with dominant win over Mumbai Indians | Cricket News Rajpal Yadav Thanks Salman Khan After His Public Support; Shah Rukh Khan Not Doing A Cameo In Jailer 2? | Bollywood News নাগরপুরে সন্ধা ৭টার মধ্যে বন্ধ হবে দোকানপাট ও শপিংমল ভূঞাপুরে অসংগতি ও অনিয়মের দায়ে ১১ ফার্মেসীর মালিককে মোবাইলে কোর্টে জরিমানা ভূঞাপুরে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান বাকৃবির মাওলানা ভাসানী হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান এপ্রিলের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড ৩৫৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী আরও ৪ জাহাজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেলেন মির্জা ফখরুল

হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১২৪ সময় দেখুন
হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষে কৃষকের স্বস্তি

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি বৃহত্তর অঞ্চল হাকালুকি হাওরে এবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সোনালি ফসলের সমারোহ। ধান কাটার পর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে কৃষকরা ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। কম খরচ,স্বল্প সময়ে অধিক ফলন ও বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ ফসল এখন হাওরাঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে বাড়তি আয়ে কৃষকদের মাঝে স্বস্তির সাথে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাওরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে বীজ বপন করলে মার্চ থেকে এপ্রিলে ফুল ও ফলন পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি একরে গড়ে হাজার মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সূর্যমুখী চাষকে বর্তমানে লাভজনক হিসেবেই দেখছেন তারা।

স্বল্পমেয়াদি এ ফসল আবাদ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে তাদের। এতে পতিত জমি ব্যবহার করে পরিবারের বাড়তি অর্থের চাহিদা মেটাতে পারছেন কৃষকরা।

এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আগে বর্ষা শেষে যেখানে কৃষি জমি অনাবাদি থাকত এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাওরের মেঠো পথ ধরে দেখা হয় বেলাগাঁও গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামানের সাথে কথা হয়। নুরুজ্জামান বলেন, ‘যে জমি বর্ষার পর পতিত থাকত সে জমিতে আমরা সূর্যমুখী চাষ করে কয়েক বছর ধরে চাষাবাদ শুরু করে লাভবান হচ্ছি। আমার তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। আশা করি, হাজার দেড়েক মন বীজ পাবো এবং দুই লাখ টাকার বেশিও লাভ হবে।’

একই গ্রামের মোজাক্কির মিয়া বলেন, ‘আগে জমি পতিত থাকত, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা সাত বছর ধরে সূর্যমুখী আবাদ করছি। ফলন ভালো হয়, নিজের পারিবারিক চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করি। এর ফলে পতিত জমিতে আমাদের বাড়তি আয়ের পথ বের হয়েছে।’

নয়াগাঁও গ্রামের লোকমান মিয়া বলেন, ‘আমার বাড়ি হাকালুকি হাওর পাড়ে। শুকনো মৌসুমে এ জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।’

জুড়ী উপজেলা নয়াগ্রাম, বেলাগাঁও, জাহাঙ্গীররাই ও ইউসুফপুর এলাকায় ১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষ ব্যাপক লাভজনক হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘বর্ষা শেষ হওয়ার পর ছয় মাস হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার জমি অনাবদি থাকে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কৃষকেদের সাথে আলাপ করে তাদের উৎসাহিত করি। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ফলন আরো বাড়ে। পাশাপাশি কৃষকেরা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে পেতে পারে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর