ঢাকা: জুলাই বিপ্লবী শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
একইসঙ্গে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে দেশের সাধারণ মানুষকে শাহবাগে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাবি শাখা ইনকিলাব মঞ্চ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়।
এতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অবস্থান কর্মসূচির ফলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আদায়ের দাবিতে বাংলাদেশের জনগণকে শাহবাগে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার জনগণের সামনে এসে জবাবদিহি না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই জায়গা জনগণ ছাড়বে না।’
তিনি বলেন, ‘হাদি ভাইকে গুলি করার আজ ১৪তম দিন, তার শাহাদাতের অষ্টম কিংবা নবম দিন পার হয়েছে। আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু রাষ্ট্র কি এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো আশ্বাস দিতে পেরেছে?’
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি একজন নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় এবং হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তবে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। রাষ্ট্র রক্ষার দায়িত্ব জনগণের নয়, সরকারের। জনগণ বারবার রক্ত দিয়ে এই রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ঢাকবে- এটা হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘শাহবাগের এই জমিন শহিদ ওসমান হাদির রক্তে ভিজে আছে। অথচ এখন কেউ কেউ এসে আন্দোলনকারীদের নির্দেশ দিতে চায়- কি করা যাবে, কি করা যাবে না। আমরা দেখছি, আপনারা ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে হাজিরা দেন। কিন্তু জনগণের সামনে এসে জবাব দিতে ভয় পান।’
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সরকারের উপদেষ্টারা শাহবাগে এসে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে।’
অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের পূর্বঘোষিত তিন দফা দাবি পুনরায় তুলে ধরেছে। দাবিগুলো হলো-
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।