ঢাকা: হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধ, গবেষণা, শিক্ষা এবং জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলের জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটির (আইপিবিএস) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চ্যাপ্টারটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ আইপিবিএস এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাফল্য কামনা করে বলেন, জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যু হার অনেক বেশি। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এইচপিভি ও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাক্সিনেশনের কোনো বিকল্প নাই। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এইচপিভি সমস্যা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএমইউ-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আইপিবিএস এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মিশন বাস্তবায়ন করা সহজ কাজ নয়, এটা বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় প্রত্যয়ের।
বিএমইউ এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, এইচপিভি সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধ করতে হলে প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, স্ক্রিনিং, ভ্যাক্সিনেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে প্যাথলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে নিরন্তর কাজ করে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক ডা. লুৎফা বেগম লিপি বলেন, বাংলাদেশে এই চ্যাপ্টারের প্রতিষ্ঠা এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ, জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আইপিভিএস-এ বাংলাদেশের সদস্যসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ঘানা, নাইজেরিয়া ও নেপালের পর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার গঠনের অনুমোদন লাভ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ডা. সৈয়দা নওশীন পারভীন, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার, বিএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, বিএমইউ এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, আইসিডিডিআর,বি-এর এমেরিটাস বিজ্ঞানী ডা. ফিরদৌসী কাদরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি. গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ডা. লরা রাইখেনবাখ, জিওএসবি সভাপতি প্রফেসর সাবেরা খাতুন, বিডিএস সি সিপির সভাপতি প্রফেসর শিরিন আক্তার বেগম এবং আইপিবিএস ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক সুজান গারল্যান্ডসহ দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।