মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১টায় শিকলবাহা ইউনিয়নের দ্বীপকালামোড়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল প্রকল্পের সহযোগিতায় ২০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে এ মশারি বিতরণ করা হয়।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জান্নাতুল শামুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা। তিনি বলেন, “আমরা যেন সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে পারি এবং কোনো ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত না হই—এই লক্ষ্য নিয়েই সরকার আমাদের আপনাদের মাঝে পাঠিয়েছে। আমাদের দায়িত্ব শুধু সচেতন করা নয়; কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্বের অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে আজকের এ মশারি বিতরণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সচেতনতা ছাড়া শুধু মশারি বিতরণ যথেষ্ট নয়—সঠিক ব্যবহারই আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।”
এ সময় তিনি উপস্থিত এক বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কি দুপুরে বা ঘুমানোর সময় মশারি টাঙান?” উত্তরে তিনি বলেন, “না।” তখন তিনি বলেন, “ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচতে হলে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। শুধু রাতে নয়, প্রয়োজনে দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিষ্কার বা ময়লা—যেকোনো জমে থাকা পানিতেই মশা জন্মাতে পারে। তাই বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।”তিনি সবাইকে নিজে মশারি ব্যবহার করার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জান্নাতুল শামুয়া বলেন, কীটনাশকযুক্ত মশারি সাধারণ মশারির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। এতে বিশেষ ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যা মশা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ধরনের মশারি ঘন ঘন ধোয়ার প্রয়োজন নেই; বছরে একবার পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট।
তিনি আরও বলেন, মশারি ধোয়ার পর যে ময়লা পানি বের হবে তা পুকুর, ডোবা বা খালে ফেলা যাবে না। এতে পানি দূষিত হতে পারে এবং মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। তাই মশারি ধোয়ার পর ময়লা পানি মাটিতে গর্ত করে সেখানে ঢেলে পুঁতে ফেলতে হবে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমওডিসি ডা. তাসিন মোস্তফা, দ্বীপকালামোড়ল ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইদ্রিস বাবুল, স্বাস্থ্য সহকারী মো. রাসেল হোসেন, হেলথ ইন্সপেক্টর কাজী শাহীন আক্তার, ফিল্ড অর্গানাইজার জুয়েল তনচংগ্যা ও স্বাস্থ্যকর্মী ফরিদা বেগম প্রমুখ।