সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন

জামালপুরে দুই যুবদলের নেতার বিরুদ্ধে মাদক কারবারি ও অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে নারীকে হেনস্তার অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১২৪ সময় দেখুন
জামালপুরে দুই যুবদলের নেতার বিরুদ্ধে মাদক কারবারি ও অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে নারীকে হেনস্তার অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাক্তন স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী। তবে মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার হুমকি-ধমকির মুখে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে ইসলামপুর উপজেলার চিনারচর এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে অভিযুক্তদের যুবদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

অভিযুক্ত শাহানুর রহমান পলাশ চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব। তিনি ওই নারীর প্রাক্তন স্বামী। অপর অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস একই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আব্দুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং শাহানুর রহমান পলাশ জুয়া ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের কর্মকাণ্ডে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, পলাশের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং প্রায় এক বছর সংসার করার পর বিচ্ছেদ ঘটে। দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গত ২৮ এপ্রিল ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলা তুলে নিতে পলাশ বিএনপির নাম ব্যবহার করে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে শাহানুর রহমান পলাশ বলেন, তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষরা তার প্রাক্তন স্ত্রীকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আপলোড করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

মাদক ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করে পলাশ বলেন, মাদকের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

অপর অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ওই নারীকে তিনি আগে চিনতেন না। ফেসবুকে ছবি প্রকাশ হওয়ার পর পলাশের কাছ থেকে জানতে পারেন তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। ছবি বা ভিডিও ছড়ানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সামনে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তারা জেনেছেন। জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য জেলায় পাঠানোর পর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সজীব খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা আগেই অবগত হয়েছেন। উপজেলা যুবদলের দায়িত্বশীলদের তদন্ত করে প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবনা হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে এসেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে মামলার বিষয়ে ইসলামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো থানায় আদালতের কোনো নথি এসে পৌঁছায়নি। নথি হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom