মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিক তন্ময় দেবনাথ কে সন্ত্রাসীদের হামলা কালিয়াকৈরে পৌরসভা ৫ নং ওয়ার্ড হরতকিতলা আমতলা জলাবদ্ধতা সকল পেশাজীবী মানুষের জনদুর্ভোগ এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি: কেন্দ্রসচিবদের ৩৫ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নতুন নির্বাহী পরিচালক জামালুন্নেসা মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩৯ বিদেশি আটক ‘পুশইন রুখে দিতে বিজিবিকে সহযোগিতায় প্রস্তুত জনগণ’ ‘I worry for him’: Brendon McCullum breaks silence on Ben Stokes nightclub controversy | Cricket News Tanya Mittal Reacts To Gullu-Bhagyashree Controversy: ‘Meri Kisi Se Aisi Koi Ladai Nahi Hai’ | Television News এঞ্জেল কেয়ার একাডেমির অধ্যক্ষ নুরুল আমিনকে অপহরণের চেষ্টা, এলাকায় চরম উত্তেজনা বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন

জামালপুরে শালা দুলাভাইয়ের প্রতারনাঃরাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪
  • ৯২ সময় দেখুন
জামালপুরে শালা দুলাভাইয়ের প্রতারনাঃরাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরে উপজেলা পরিষদে কর্মরত শ্যালক মিলন মিয়া ও তার দুলাভাই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের কথা বলে স্থানীয়দের থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের ব্যাপারিপাড়া এলাকায়। এদিকে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দেড় মাসের মধ্যে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে রাস্তাটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় একটি রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ব্যাপারীপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেন একই এলাকার মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে মিলন মিয়া (৪০)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় কার্য সহকারি পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন।
আর এই কাজে সহযোগীতা করেন তার দুলাভাই জাহাঙ্গীর (৪৫)।
রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা খুবই কম তাই স্থানীয়রা টাকা দিলে কাজ শুরু হবে এই কথা বলে ওই এলাকার প্রায় ১শ জনের নিকট থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা আদায় করেন শ্যালক মিলন মিয়া ও তার দুলাভাই জাহাঙ্গীর।

রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের কথা বলে প্রত্যেকের নিকট থেকে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন দুলাভাই ও শ্যালক। তবে পরবর্তীতে সরকারি অর্থে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হলে স্থানীয়রা আদায়কৃত অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি টের পান। স্থানীয় ভূক্তভোগীদের অভিযোগ সরকারি অর্থে যদি কাজ হয় তাহলে আমরা যে টাকা দিলাম সেটা গেল কোথায়। ব্যাপারীপাড়া এলাকার ২৫০ মিটার ও পৃথক আরও দুইটি রাস্তাসহ মোট এক হাজার মিটার রাস্তা নির্মানের জন্য মোট ৮০ লাখ টাকায় কাজটি পায় রাহাত এন্টারপ্রাইজ।

ওই এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী মো: মালেক জানান, রাস্তা এবং ড্রেন নির্মাণের জন্য আমাদের তিন পরিবার মিলে জাহাঙ্গীরকে ছয় হাজার টাকা দিয়েছি। এছাড়াও নির্মাণ কাজের জন্য আমার বাড়ির দেয়াল ভেঙে যায়গা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু রাস্তার কাজ করলেও ড্রেন নির্মাণ করেনি, পরে আমি নিজের টাকায় ড্রেন নির্মাণ করি। রাস্তার কাজ একদম নিম্নমানের হয়েছে। এখন রাস্তা যদি ভেঙে যায় সেই অজুহাতে মিলন মিয়া ও জাহাঙ্গীর এই রাস্তা দিয়ে কোন গাড়িও চলাচল করতে দেয়না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে সরকারি টাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে তাহলে আমাদের নিকট থেকে যে টাকা নিল সেই টাকা কোথায় গেল?

আরেক ভূক্তভোগী মোহাব্বত জানান, আমার কাছে টাকা চেয়েছিলো কিন্তু আমি টাকা দিতে পারি নাই, তাই আমার বাড়ির সামনে ড্রেনের কাজ না করে অসম্পূর্ণ করে রেখেছে। আমাদের বাড়ির চারপাশে এখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আমি আমার আট মাসের বাচ্চা নিয়ে খুব বিপদে আছি, কখন জানি পানিতে পড়ে যায়। মোছা: রুকেয়া জানান, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করেছে ভালো কথা, কিন্তু পানি নিষ্কাশন যদি না হয়। তাহলে ড্রেন দিয়ে কি লাভ হল। আমাদের নিকট থেকে কাজের কথা বলে টাকাও নিয়েছে। পরে জানলান যে সরকারি টাকায় রাস্তা ও ড্রেনের কাজ হচ্ছে, তাহলে আমাদের টাকা কোথায় গেল।
একই এলাকার সানজিদুল জানান, রাস্তা নির্মাণের জন্য টাকা নিয়েও নিম্নমানের কাজ করেছে। মাত্র দেড় মাস আগে রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনই বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় কার্য সহকারি পদে কর্মরত মিলন মিয়া জানান, আমি কোন টাকা আদায় করিনি, আমার নামে অন্য কেউ টাকা তুলতে পারে। ব্যাক্তিগত আক্রোশ থেকে আমি ও আমার দুলাভাইয়ের নামে এসব মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাহাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাহাত জানান, পৃথক তিনটি রাস্তার এক হাজার মিটারের জন্য মোট ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিলো। ব্যাপারীপাড়া এলাকায় শুধুমাত্র ২৫০ মিটার রাস্তা নির্মানের জন্য সাড়ে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিলো। ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি। রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তিনি জানেন না বলেও জানান ঠিকাদার।
জামালপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান বলেন, রাস্তার কাজের জন্য অর্থ আদায়ের বিষয়ে শুনেছি, তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। রাস্তাটি পরিদর্শন করব, অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে ও নিম্নমানের কাজ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহদী পিংকি জানান, আমি বিষয় টি দেখবো

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom