বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

দখলে দূষণে ভরাট কর্ণফুলীর বাদামতল খাল, নেই কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬৬ সময় দেখুন
দখলে দূষণে ভরাট কর্ণফুলীর বাদামতল খাল, নেই কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথর ঘাটার বাদামতল খাল দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। খাল ভরাট, দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময়ই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতল খালটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। অনেক সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে থাকছে দিনের পর দিন। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন। স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়ে পরে সড়কে এসে পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্যও চোখে পড়ে।

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। এতে করে পানিবাহিত রোগ, মশার উপদ্রব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন বহু পরিবার; অনেক স্থানে টিউবওয়েল পানির নিচে ডুবে গেছে।

স্থানীয়দের জানান, বাতামতল খালটি দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক বর্জ্য ও গৃহস্থালির আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। পাশ্ববর্তী বাড়িঘর থেকে প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলার কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই খালের পানি উপচে আশপাশের রাস্তাঘাট ও বসতঘরে ঢুকে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খালের দুই পাশে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণের ফলে খালটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে প্রতিদিনের বর্জ্য খালে ফেলা হচ্ছে, যা খাল ভরাটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খালের পাশ দিয়ে অবস্থিত পশ্চিম চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগে রয়েছে। আগে বৃষ্টির পানি সহজেই খাল দিয়ে নেমে যেত, কিন্তু এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরাসরি রাস্তায় উঠে বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষদের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ জুয়েল বলেন, “কয়েক বছর আগে খালটি পরিষ্কার করা হয়েছিল। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পুনরায় ময়লা ফেলার কারণে খালটি আবার ভরাট হয়ে গেছে।” তিনি জানান, সরকারিভাবে খাল খননের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, আগামী মাস থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুর হবে। প্রত্যেক উপজেলায় দুইটি খাল খননের জন্য বরাদ্দ এসেছে। পর্যায়ক্রমে পনেরোটি খাল খননের কাজ চলবে। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর