আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ধনী দেশগুলোর হাতে থাকা লাখ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই গরিব দেশগুলোকে দান করতে জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বছরজুড়েই করোনা ভ্যাকসিনের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আর গরিব দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার সঙ্গতি নেই, তাই ধনীদেশগুলোকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডরদের সই করা একটি চিঠি ইতোমধ্যেই শিল্পোন্নত জি-৭ দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখানে, দেশগুলোর হাতে থাকা ভ্যাকসিন ডোজের ২০ শতাংশ এখনই গরিব দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য দান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে ইউনিসেফের ওই আহ্বানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় পপস্টার বিলি আইলিশ, ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহাম। এছাড়াও রয়েছেন অ্যান্ডি মারে, অলিভিয়া কোলম্যান, ইওয়েন ম্যাকগ্রেগর, লিয়াম পেইন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস, অরলান্ডো ব্লুম, কেটি পেরি, জেমা চ্যান, হুপি গোল্ডবার্গ, ক্লডিয়া শিফার ও ক্রিস হয়
যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে তাদের হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ভ্যাকসিন দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রতি এই চিঠির মাধ্যমে দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নে তাগিদ দিল ইউনিসেফ।
তবে, ইউনিসেফ এমনটা চাইলেও কয়েকদিন আগেই যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছিলেন, তারা এখন অন্য দেশে ভ্যাকসিন পাঠানোর আগে নিজেদের শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
পরে হ্যানকক বলেছেন, যুক্তরাজ্যের কাছে এখন কোনো উদ্বৃত্ত ভ্যাকসিনই নেই।
যদিও, করোনার বিভিন্ন ভ্যাকসিনের ৪০ কোটি ডোজ ক্রয়াদেশ দিয়ে রাখা যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে নাগরিকদের একটি বড় অংশকে ভ্যাকসিন কর্মসূচির আওতায় এনেছে।
এদিকে, ইউনিসেফের কর্মকর্তা লিলি কাপরানি জি-৭ দেশগুলোকে এখন থেকেই ভ্যাকসিন দান করা শুরু করে বছরজুড়েই এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, জি-৭ দেশগুলো শিগগিরই এত ভ্যাকসিন হাতে পাবে যে, জুন-আগস্টের মধ্যে তার ২০ শতাংশ অনায়াসে দান করতে পারবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, কোভ্যাক্সের কাছে ১৫ কোটির বেশি ডোজ ভ্যাকসিন জমা হবে।
সারাবাংলা/একেএম