মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ হাদি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৭২ সময় দেখুন
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ হাদি


ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক ::

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। আজ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। 

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে এ জানাজা আদায় করা হয়। জানাজা শেষে তাকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় অংশ নেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ জানাজায় অংশ নিয়ে শহীদ হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

হাদির জানাজার নামাজ পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে জানাজায় বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বক্তব্য দেন এবং শহীদ হাদির জীবনপঞ্জি পাঠ করে শোনান। আরো বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ জুড়ে আবেগ ও প্রতিবাদের মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কেউ হাদির মৃত্যুতে অশ্রুসিক্ত হন, আবার কেউ ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাদির মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন হাদি।

জানাজার আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, ওসমান হাদি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন এবং নির্বাচন কীভাবে করা উচিত, তার একটি প্রক্রিয়াও তিনি দেখিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, হাদি যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটি আমাদের সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। কীভাবে প্রচারণা চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়- সবকিছুরই শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন। আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করেছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদি কোথাও হারিয়ে যাবে না। কোনোদিন তোমাকে কেউ ভুলতে পারবে না। তোমাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম। আমরা সবসময় তোমার কথা রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকব।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজ লাখ লাখ মানুষ হাজির হয়েছেন। রাজপথে ঢেউয়ের মতো লোক আসছে। এই মুহূর্তে কোটি কেটি মানুষের চোখ এখানে। তারা তাকিয়ে রয়েছে হাদির বিষয়ে জানার জন্য। প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছ। বাংলাদেশ যতদিন আছে, ততদিন তুমি সব বাংলাদেশির বুকে থাকবে। এটা কেউ সরাতে পারবে না।

সকালে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহটি পুনরায় নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ মরদেহটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়।



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom