শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাধা পেরিয়ে প্রত্যন্ত স্কুলে পুষ্টির টিফিন কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে ৩৫ টি পোশাক কারখানা বন্ধ উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে দুটি নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন নোয়াখালীতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম জাপানে রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্যা, ৪ জনের মৃত্যু ‘I’d love players to be mobbed like IPL cricketers’: The push to make esports mainstream ‘দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কোকোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল’ Kangana Ranaut Slams Bollywood’s Silence On Jharkhand Protest; Ranveer Singh’s Pralay Shoot Shifted To Mumbai | Bollywood News দৌলতপুরে অবৈধ সিগারেট কারখানায় অভিযান, জব্দ সাড়ে ২৫ লাখ নকল সিগারেট কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে শিল্প রফতানি ব্যাহত লেখাপড়ায় বিঘ্নিত

জাপানে রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্যা, ৪ জনের মৃত্যু

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন


পূর্ব জাপানের টোকিও-সংলগ্ন চিবা প্রিফেকচারে ইতিহাসের রেকর্ড বৃষ্টিতে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বর্ষণে আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন এবং নিখোঁজ হয়েছেন একজন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এটি আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় তিনগুণ এবং দেশটিতে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

এই প্রবল বর্ষণে রেল, বাস ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং চিবার ২০,০০০-এরও বেশি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ রাতভর আটকা পড়েছেন।

জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে-র ফুটেজে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা গাড়ি দেখা গেছে।

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর এক লাখেরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমবারের মতো চিবাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর অর্থাৎ লেভেল ৫, জারি করে। পরে আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে তা কমিয়ে লেভেল ৪-এ নামিয়ে আনা হয়। তবে কর্তৃপক্ষ ভূমিধস, বন্যা এবং ফুলে ওঠা নদীর বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে চলেছে।

নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীরা। রয়টার্স।

রেল স্টেশনগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের পরিবহনে সহায়তা করার জন্য শুক্রবার সকালে সেল্ফ ডিফেন্স ফোরর্সেস মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রায় ১৮০০ বাসিন্দা চিবা প্রিফেকচারাল গভর্নমেন্ট ভবনে রাত কাটিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে টোকিওর দুটি প্রধান বিমানবন্দরের অন্যতম নারিতা বিমানবন্দরে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭,০০০ মানুষ রাতভর আটকা পড়েছিলেন।

বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সব ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে, তবে কোনো ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা নেই।

পরিবারসহ বিমানবন্দরে আটকা পড়া এক আমেরিকান পর্যটক এনএইচকে-কে বলেন, ‘আমরা এই ভ্রমণটি কখনোই ভুলব না।’

শুক্রবার সকালেও বেশ কয়েকটি জায়গার রেল যোগাযোগ স্থগিত রয়েছে এবং কিছু প্রধান মহাসড়কও বন্ধ আছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) একজন কর্মকর্তা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এক অভূতপূর্ব মাত্রার ভারী বৃষ্টিপাত হতে চলেছে।’

শুক্রবার সকালে চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ডেও এই ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। আমি অতীতে অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এমন ঘটনার সম্মুখীন আগে কখনো হইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জীবন বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দেব এবং উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাব।’

সরকারী কার্যালয়ে একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন অবস্থান করছে। রয়টার্স।

চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকে-কে বলেন, ‘বৃষ্টি হঠাৎ করেই শুরু হওয়ায় এটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিদ্যুৎ চলে গেছে, তাই আমি চিন্তিত যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারব কি না।’

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ারের তথ্যমতে, ভারী বৃষ্টির ফলে জাপানে বর্তমানে ২৩,০০০-এরও বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

এদের সিংহভাগই চিবা প্রিফেকচারে অবস্থিত, যা ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে ইবারাকি প্রিফেকচার, যেখানে প্রায় ৬০০-এর কম বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে, এবং তোচিগি প্রিফেকচারেও ৩০০-এর বেশি পরিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হয়েছে।

এই অঞ্চলে এক সপ্তাহ ধরে চলা ঝড়ের পর এই বন্যা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে যে, পূর্ব জাপানে প্রবাহিত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উপরের শীতল বায়ুর সঙ্গে মিলিত হয়ে বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল করে তোলায় এই প্রবল বর্ষণ হয়েছে।

জাপান, চীন এবং ফিলিপাইন পরপর তিনটি ঝড়ের কবলে পড়েছে। ডলফিন, চ্যান-হোম এবং পেইলোউ –নামের এই ঝড়গুলো একই সময়ে এই অঞ্চলজুড়ে বয়ে চলেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে, চীনের পূর্বাঞ্চলে এখন পর্যন্ত আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। এ কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ দশ লাখেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেয়।

 

 





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom