ব্যবহারিক আইন শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও কার্যকর ও সুসংহত করার লক্ষ্যে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দুটি নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ চালু করেছে।
উদ্যোগ দুটি হলো “Legal Practice Lab Training to Students” এবং “Access to Justice through Community ADR Linkages and Legal Awareness”। সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের School of Arts and Social Sciences (SoASS)-এর ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দা আফরোজা জেরিন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ দুটি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
Legal Practice Lab Training উদ্যোগটি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক আইন শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক কার্যক্রম, আইনগত কৌশল ও পেশাগত অনুশীলনের বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব আইন পেশার একটি কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, Access to Justice through Community ADR Linkages and Legal Awareness উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটিতে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি, Alternative Dispute Resolution (ADR) ব্যবস্থার প্রসার এবং আইন শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, বিচারিক পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সহজ করতে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, উদ্যোগ দুটি সহযোগী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক মুন্সীর তত্ত্বাবধানে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ধারণাগত বিকাশ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও সহযোগিতার জন্য আইন বিভাগ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় উদ্যোগ দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিভাগ আশা করছে, এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের দক্ষ, পেশামুখী, দায়িত্বশীল ও সমাজসচেতন ভবিষ্যৎ আইন পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুটি উদ্যোগের উদ্বোধন আইন বিভাগের আইন শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সমন্বিত করার চলমান প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।