মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ধামাকা শপিং ১১৭ কোটি টাকা পাচার করেছে যেভাবে

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩২৭ সময় দেখুন
ধামাকা শপিং ১১৭ কোটি টাকা পাচার করেছে যেভাবে


ধামাকা শপিংয়ের বিরুদ্ধে ই-কমার্সের নামে অস্বাভাবিক স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহের লোভ দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ১১৭ কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএমডি জসিম উদ্দিন চিশতিসহ তার স্ত্রী ও তিন সন্তান ও ধামাকা শপিংয়ের এক পরিচালক এবং চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সিআইডি গত ৩০ জুন থেকে ধামাকা শপিয়ংয়ের বিরুদ্ধে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ই-কমার্সের নামে বিভিন্ন পণ্যের লোভনীয় অফার ও ভার্চুয়াল সিগনেচার কার্ড বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে গ্রহণ করে অবৈধভাবে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের বিষয়ে মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়টি অনুসন্ধান করে।

অনুসন্ধানকালে মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং তথ্য বিভিন্ন সেলার ও গ্রাহকদের জবানবন্দি, বিভিন্ন সহকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে।

পর্যালোচনায় জানা যায়, ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সাল থেকে যৌথ মূলধনী কোম্পানী ও ফর্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে ডেভেলপমেন্টস, সফটওয়্যার, টেলিকম সিস্টেমস, স্মার্ট ফোন ও আইপি ফোন, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, কমিউনিকেশন আমদানি-রপ্তানি-ধরনের ব্যবসার অনুমতি নেয়।

পরে গত অক্টোবর ২০২০ থেকে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য ধামাকা শপিং নামে অবৈধভাবে ই-কমার্স ব্যবসা চালু করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সংঘবন্ধ প্রতারক চক্রটি অর্থ আত্মসাৎ করার জন্যই ধামাকা শপিং নাম ব্যবহার করে। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণ ধামাকা শপিংয়ের নামে কোনো প্রকার অনুমোদন, নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, বিআইএন, ব্যাংক হিসাব বা দালিলিক ভিত্তি ছাড়াই প্রতারণার উদ্দেশ্যে ই-কমার্স ব্যবসা করে বলে প্রতীয়মান হয়।

এই থেকে স্পষ্টভাবে আরও প্রতীয়মান হয় যে, নিরীহ জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করায় ছিল প্রতারক চক্রটির মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিষ্ঠানটির সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকার একোয়া টাওয়ারে অবস্থান করে অবৈধভাবে ধামাকা শপিং নামক ই-কমার্স সাইট/অ্যাপসের মাধ্যমে তথাকথিত ব্যবসা পরিচালনা করে প্রায় ৫ লক্ষাধিক গ্রাহকদের নিকট থেকে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক স্বল্পমূল্যে মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে তিনটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৮০৩.৫২ কোটি টাকা গ্রহণ করে। প্রথম দিকে অল্পসংখ্যক গ্রাহককে কিছু পণ্য সরবরাহ করার মাধ্যম্যে অধিকসংখ্যক গ্রাহক আকৃষ্ট করে তাদের ক্রয়াদেশকৃত পণ্য আর সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করে।

অন্যদিকে প্রায় ৬০০ পণ্য সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের নাম করে প্রায় ২০০ কোটি টাকার পণ্য গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ না করেও প্রতারণা করে।

অনুসন্ধানকালে সিআইডি জানতে পারে, গ্রাহকদের অর্ডার করা পণ্যমূল্য এসএসএল কমার্স, সিটি ব্যাংক ও বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাইথইস্ট ব্যাংক মহাখালী শাখা, সিটি ব্যাংক গুলশান শাখা ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক মহাখালী শাখার পৃথক তিনটি হিসাবে জমা করে।

ধামাকা শপিংয়ের ক্রয়াদেশের টাকা ইনভেয়েন্ট টেলিকমের ব্যাংক একাউন্টগুলোতে জমার পর বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ তাদের মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ইনভেরিয়েন্ট টেকনোলোজিস লিমিটেড, মাইক্রো ট্রেড ও মাইক্রো ট্রেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে অবৈধভাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেছে।

পর্যালোচনায় সিআইডি জেনেছে, এই সময়ে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম লিমিটেডের সাইথইস্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে ইনভেরিয়েন্ট টেকনোলোজিসের সাইথইস্ট ব্যাংক, মহাখালী শাখার হিসাবে মোট ৫৮.৫১ কোটি টাকা এবং সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাবে ৪২.১৭ কোটি টাকা ইনভেরিয়েন্ট টেকনোলোজিসের হিসাবে মোট ১০০.৬৮ কোটি টাকা স্থানান্তরপূর্বক গ্রহণ করে। একইভাবে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রতিষ্ঠানটির অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপর প্রতিষ্ঠান মাইক্রো ট্রেড ফুড অ্যান্ড ব্রেভারেজ লিমিটেডের সাউথইস্ট ব্যাংক মহাখালী শাখার হিসাবে মোট ২.২৯ কোটি টাকা স্থানান্তর করে। একইভাবে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে মাইক্রো ট্রেডের সাউথইস্ট ব্যাংকের হিসাবে মোট ৭.৫৩ লাখ টাকা স্থানান্তর করে।

একইসাথে প্রতিষ্ঠানটির সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে মাইক্রো ট্রেডের সিটি ব্যাংকের হিসাবে মোট ১৩.৭০ কোটি টাকা স্থানান্তরপূর্বক গ্রহণ করে।

সূত্রঃ দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ট



Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর