মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট ও মশক নিধন সামগ্রিক বিতরণ কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্ণফুলীতে বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধন, দিনব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন ‘আজকের বিতার্কিকরাই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে’ হামলাকারী রাবি ছাত্রদল নেতাদের বাঁচাতে সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করল প্রভোস্ট ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯০২ দাসত্ব বরণ নয় বরং প্রযুক্তির উপর করতে হবে রাজত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী Mohsin Khan-Tamanna Married In Los Angeles? YRKKH Actor’s Cryptic Post Has Fans Saying ‘Mr And Mrs Khan’ | Television News R Praggnanandhaa: ‘I had fever, was not high on energy’: R Praggnanandhaa after double medals at Chess Olympiad | Exclusive | Chess News দুর্গাপূজায় কেউ দুরভিসন্ধি করলে সরকার সহ্য করবে না: ইশরাক

অনলাইন উদ্যোক্তা সেলস কমে গেলে পরিকল্পনাটা কিভাবে সাজাবেন?

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪
  • ৩১৪৭ সময় দেখুন
অনলাইন উদ্যোক্তা সেলস কমে গেলে পরিকল্পনাটা কিভাবে সাজাবেন?

যখন অনলাইনে সেল কমে যায়, কোন ধরনের পরিকল্পনাই সেল নিয়ে আসতে পারে না, কনটেন্টে ভ্যারিয়েশন এনেও সেল আনা সম্ভব হচ্ছে না, যতই অ্যাড খরচ বাড়ান, মানুষ অর্ডার করেই না। তখনই উদ্যোক্তাদের হতাশা বাড়তে থাকে। বর্তমানে সকল উদ্যোক্তাদের জন্য সেইরকমই একটা সময় চলছে। প্রায় সকল উদ্যোক্তারাই নি:স্ব হওয়ার পথে। ভেন্ডরদের কাছে দেনা বাড়ছে, ভেন্ডরদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। ভেন্ডরদের চাপ যেমন বাড়ছে, একইভাবে প্রতিষ্ঠানের চাকরিরত কর্মীরাও স্যালারি না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এরকম মুহূর্তটাতে উদ্যোক্তারা যা ভুল করে বিপদটাকে দীর্ঘস্থায়ী করছেন:

অর্ডার না আসলেই উদ্যোক্তারা আরও বেশি বেশি প্রোডাক্ট নিয়ে পোস্ট শুরু করে দেন। কারও কারও দেখেছি, প্রোডাক্ট নিয়ে লাইভ করা বাড়িয়ে দেন। কারও সামর্থ্যের মধ্যে থাকলে অ্যাড খরচ বাড়িয়ে একই ব্যক্তিকে একই কনটেন্ট ৫০ বার করে দেখান। যাদের সামর্থ্য নাই, তারা ধৈর্য হারা হয়ে ৮০ – ১০০ জনকে ট্যাগ করে পোস্ট শুরু করে দিলেন। তাতেও সেল বাড়ছে না, হতাশ হয়ে এবার ইনবক্সে পরিচিতদেরকে প্রোডাক্ট পোস্ট নিয়ে নক শুরু করে দিচ্ছেন।

এটাতে সেল তো বাড়বেই না, বরং সেল যা ছিল পুরোটাই ডাউন হয়ে যাবে।

আপনার পোস্টকে (সেলস পোস্টকে) কয়েকবার ইগনোর করলেই পরের পোস্টগুলোর রিচ ফেসবুকে নিজেই কমিয়ে দিবে। আপনাকে মোস্ট আনওয়ান্টেড মানুষ হিসেবেই ফেসবুক গণনা শুরু করবে। ফলাফল, আপনার পোস্টের রিচ কমিয়ে দিবে। কিংবা সেল হওয়ার সম্ভাব্য যেসব ব্যক্তি, তাদের কাছেই রিচ কমিয়ে দিবে। এমন ব্যক্তিদের কাছে রিচ করাবে, যারা প্রোডাক্ট কিনার মত ক্ষমতাধারী না কিন্তু তারা যে কোন পোস্টেই অ্যাংগেজ হয়ে থাকে। এসব ব্যক্তির কাছে পোস্ট রিচ হওয়া শুরুটা করে আর তখনই আপনারা দেখছেন, রিচ হচ্ছে কিন্তু সেলস তো আর দেখা যাচ্ছে না।

মূলত ফেসবুক তখন আপনাকে আনওয়ান্টেড ব্যক্তি হিসেবে কাউন্ট করে স্মার্ট ব্যক্তি (যারা প্রোডাক্ট অর্ডার করার জন্য সবচাইতে সম্ভাব্য ব্যক্তি ছিল) তাদের কাছেই পোস্ট রিচ করাবে না। তার মানে কেনাকাটার সামর্থ্য ওয়ালা মানুষগুলো আপনার পোস্ট কম দেখা শুরু করবে। সো, অটোমেটিক সেলটা তখনই কমে যায়।

তার মানে যখন সেল কোনভাবেই হচ্ছে না, তখন সেলের জন্য উদগ্রীব হয়ে অ্যাগ্রেসিভ উপস্থিতি থেকে নিজেকে সংবরণ করে, মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে নিজের বা ব্রান্ডের পজিশন তৈরি করতে কাস্টমার জার্নির সেলস স্টেপের জন্য কনটেন্ট বানানো একদম কমিয়ে নিয়ে আছেন।

তখন আপনার প্রোডাক্টের কাস্টমার জার্নি ম্যাপটা বুঝুন ভালোভাবে। তারপর জার্নি ম্যাপ অনুযায়ী সেলস স্টেপের পরিকল্পনাগুলো আপাতত অফ রেখে, সম্ভাব্য কাস্টমারকে আপনার ব্রান্ডের প্রতি আলাদা মায়া তৈরির, ব্রান্ডকে সম্মানের জায়গাতে অবস্থান নিয়ে যাওয়ার স্টেপগুলোর জন্য অ্যাক্টিভিটি, কনটেন্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন, তারপর কাজ শুরু করুন।

কাস্টমার জার্নি ম্যাপের শুরু স্টেপগুলো মাথাতে রেখে কনটেন্ট তৈরিটা খুবই বেশি পরিমাণে বাড়িয়ে দিন।

এবার আছি, তাহলে এই সময়টাতে কাজের ধারা কি হবে?

◉ প্রথমত সেল কম বেশি থাকবেই সেটা মেনে ধৈর্য ধরাটাই কঠিন মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। সেই সাথে আগে যা রেজাল্ট আনছে, সেটা এখনও রেজাল্ট নিয়ে আসবে, এই আত্মবিশ্বাস থেকে সড়ে আসতে হবে। কাস্টমার অ্যাংগেজমেন্ট করার পুরো স্টেপটাই নতুনভাবে সাজাতে হবে, না হলে আপনাকে হারিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিটাই নিতে হবে।

◉ পণ্যের পোস্ট বাড়িয়ে দেওয়ার চাইতে, পোস্ট কতজন মানুষের কাছে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে বেশি। তাহলে নিজেকে অতিরিক্ত পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবেন। অডিয়েন্সও বোরড হওয়া থেকে একটু মুক্তি পাবে। আরও সেল পোস্ট বাড়িয়ে দিলাম, মানুষ সেই পোস্টগুলোতে আটকাচ্ছে দেখে, ফেসবুক আপনাকে আনওয়ান্টেড ক্যাটাগরিতে ফেলে দিলো, এবং সেই কারণে পোস্ট রিচটাও কমিয়ে দিলো, তাহলে পোস্ট করে লাভ কি? পোস্ট রিচ বাড়ানোর জন্য বিজনেসের বাহিরে অন্য কোন পোস্ট করে পোস্ট অ্যাংগেজ বাড়িয়ে নিন, তার ফাকে ফাকে প্রোডাক্টের পোস্ট যাবে। অর্থাৎ প্রোডাক্টের পোস্ট কমিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে সোশ্যাল মিডিয়া টাইপ পোস্ট বাড়িয়ে দিতাম।

◉ পোস্টগুলো মানুষের স্ক্রলিং থামাতে পারছে কিনা, আমার পোস্ট মানুষের অ্যাটেনশন নিতে পারছে কিনা সেটা নিয়ে ভাবতে বেশি সময় ব্যয় করুন। হুট করে পোস্ট করে দিয়েন না। পোস্টে ভিন্ন কোন বৈচিত্র্য এনে মানুষের অ্যাটেনশন এনে স্ক্রলিং থামিয়ে পোস্টে ক্লিক করতে বাধ্য করার মত কনটেন্ট তৈরি করুন।

◉ অডিয়েন্স সার্কেল বাড়াতে ফেসবুক অ্যাডসের বাহিরে অন্যান্য মাধ্যমগুলোকেও ব্যবহার করার পরিকল্পনাটা সাজিয়ে কাজ শুরু করুন । অর্থাৎ ১০টা ফেসবুক গ্রুপকে টার্গেট করলে মোটামুটি নতুন ৫০ হাজার জনের কাছে নিজের ব্রান্ডকে পরিচিত করা সম্ভব হবে, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক সহ লাখ খানিক মানুষের কাছে মেসেজ পৌঁছানোর পরিকল্পনা সাজিয়ে টোটাল পরিকল্পনাটা সাজান এবার।

◉ টার্গেট অডিয়েন্স ধরনে পরিবর্তন আনুন, সেই পরিবর্তন অনুযায়ী কনটেন্টগুলো রেডি করুন এখন। যারা একদম কেনার জন্য প্রস্তুত তাদের জন্য কনটেন্ট তৈরি করতাম, এখন যারা কিনার জন্য প্রস্তুত না, কিন্তু এমন কনটেন্ট যে, দেখে তাদেরও একটু মন উশখুশ করবে কিনার ব্যাপারে তাদের মনকে আরও উতলা করে দিতেই কনটেন্টগুলো বানাতে শুরু করি। যেমন: হার্টের জন্য ভালো, এই মেসেজ লিখে সরিষা তেলের বিজ্ঞাপন চালিয়ে এতদিন সেল পেলেও, এখন থেকে রান্নার রেসিপি দিন। তাতে যারা সয়াবিন তেল ব্যবহার করে, তারাও রান্নার রেসিপিটা দেখার জন্য আপনার কনটেন্টে অ্যাংগেজ হবে, এবং সরিষা তেল ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।

◉ কিনতে আগ্রহী কিন্তু অর্ডার করছে না এখনও, এরকম কিছু অডিয়েন্স রয়েছে মনে হলে, তাদেরকে কিনতে উদ্বুদ্ধ করতে কিছু অফার কিংবা গিভওয়ে অফার দিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করে দিন। তাতেই লোভে অনেকে সুযোগ মিস করতে চাইবে না, তখনই সেল বেড়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

◉ পুরানো কাস্টমারদের আবার নক দেওয়ার জন্য তাদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা করুন। তাদের জন্য স্পেশাল কোন অফার পরিকল্পনা করুন। পুরানো কাস্টমারদের ৬০-৭০% কে আবার প্রোডাক্ট কিনতে উদ্বুদ্ধ করতে আলাদা অফার দিন।

◉ সোশ্যাল মিডিয়াতে অডিয়েন্সের সাথে অ্যাংগেজমেন্ট বাড়াতে কিছু পরিকল্পনা হাতে নিন। বিশেষ ধরনের গেইম, কুইজ, কিংবা ভিন্ন কোন ধরনের অ্যাংগেজিং টাইপ লাইভ পরিকল্পনা করুন। যেসব স্টুডেন্টরা এসসি পাশ করেছে, তাদের মায়েদের নিয়ে অনলাইন আড্ডা হতে পারে। বাচ্চাদের ভালো রেজাল্টের পিছনের গল্পগুলো শেয়ার করলো। সেখানে কি খাওয়াচ্ছে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। সেখানে আপনার প্রোডাক্ট ঘি, হানি নাটস নিয়ে আলোচনাও হতে পারে।

◉ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, নতুন কিছু ভাবতে গিয়ে নিজের ব্রেইনের উপর নির্ভর না করে, ক্রিয়েটিভভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্রান্ডিং করে তাদের পেইজগুলোতে ২দিন ধরে সময় ব্যয় করে কিছু আইডিয়া নিন, সেখানের কোন অ্যাংগেজ করার মত আইডিয়া পেলে সেই আইডিয়াকে একটু ঘষামাজা করে আপনার কনটেন্টটা নিয়ে প্লান করুন।

যারা সেল নিয়ে মহা টেনশনে আছেন, তাদের জন্য এ পরিকল্পনা আশা করি, অনেক বেশি সহযোগিতা করবে। প্রতিনিয়ত আরো ক্রিয়েটিভ পরিকল্পনা নিয়ে অডিয়েন্সকে অ্যাংগেজ করার চেষ্টা করুন। না হলে বিজনেস বড় করাটা এখন চ্যালেঞ্জিং হবে।

লেখক: মো. ইকরাম, ফাউন্ডার, কনটেন্ট কিং

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর