শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

নতি স্বীকার নয়, বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে: খামেনি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২০ সময় দেখুন
নতি স্বীকার নয়, বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে: খামেনি


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার হুমকি দেওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কোনো অবস্থাতেই শত্রুদের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি বিক্ষোভকে বৈধ ও দাঙ্গাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) টেলিভিশনে প্রচারিত এক রেকর্ড করা ভাষণে খামেনি বলেন, ইরান শত্রুদের চাপের কাছে মাথা নত করবে না। যারা দাঙ্গা সৃষ্টি করছে, তাদের অবশ্যই তাদের জায়গায় রাখা উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যৌক্তিক।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানি রিয়ালের দরপতনের জেরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কুর্দি অধিকার সংগঠন হেনগাও জানিয়েছে, শুধু শুক্রবার রাতেই ১৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সরকারিভাবে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বৈত কৌশল নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক দাবিকে বৈধ বলে স্বীকার করে সংলাপের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংস বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে। পশ্চিম ইরানের কয়েকটি প্রদেশের ছোট শহরে সহিংসতার ঘটনায় একাধিক প্রাণহানির খবরও পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্থিরতার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য নিহত এবং এক ডজনের বেশি আহত হয়েছেন।

ভাষণে খামেনি বলেন, ‘বাজারিরা ঠিকই বলেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালানো কঠিন। আমরা বিক্ষোভকারীদের কথা শুনব, কিন্তু দাঙ্গাবাজদের সঙ্গে আলোচনার কোনো অর্থ নেই।’

এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন প্রস্তুত রয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত অর্থনীতি, পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ক্ষতির ফলে ইরান বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে হিজবুল্লাহর দুর্বলতা, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে ধাক্কা সব মিলিয়ে তেহরানের ওপর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom