বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন

কালিয়াকৈরে মহাসড়কে মৃত্যুর ফাঁদ,ফায়ার সার্ভিসের সামনে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ফুঁসছে ১০ হাজার শ্রমিক

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩১ সময় দেখুন
কালিয়াকৈরে মহাসড়কে মৃত্যুর ফাঁদ,ফায়ার সার্ভিসের সামনে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে ফুঁসছে ১০ হাজার শ্রমিক

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকিতলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে ফুটওভার ব্রিজের অভাবে প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক ও এলাকাবাসী। স্থানিয় ইকোনিট টেক্সটাইল’সহ আশপাশের৪-৫টি কারখানার প্রায় ১০হাজার শ্রমিক ও স্কুল কলেজগামী শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা সকাল ও সন্ধ্যায় শিফট বদলের সময় জীবন হাতে নিয়ে দৌড়ে চার লেনের মহাসড়ক পার হন। ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছেই। কেউ নিহত, কেউ পঙ্গু হয়ে চিরতরে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা৭টায় শিফট পরিবর্তনের সময় শ্রমিকদের ঢল নামে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে।কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের সামনে মহাসড়কের ডিভাইডার টপকে,দ্রুতগতির বাস-ট্রাকের সামনে দিয়ে দৌড়ে পার হচ্ছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে এই মহাসড়ক পার হতে পারছে না এবং সঠিকসময়ে তারা স্কুলে যাইতে পারতেছে না অভিভাবকরা হতাশ।
পাশেই কারখানার পোশাকদারি দারোয়ানরা বাঁশি বাজিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু মহাসড়কের হাইওয়েতে ৮০-১০০ কিমি গতির গাড়ি হঠাৎ থামানো যায় না। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন,আমরা সারাক্ষণ দাঁড়ায় থাকি। তাও কাভার দিতে পারি না। হঠাৎ দৌড় দেয়,গাড়ির নিচে চলে যায়। একটা ফুটওভার ব্রিজ হইলে আমাদেরও চাপ কমত,মানুষও বাঁচত ।আতঙ্কিত নারী শ্রমিকরা মুখে বুকে হাত দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। কেউ আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে দৌড়াচ্ছেন। ডিভাইডারের ওপর দিয়ে লাফিয়ে নামছেন অনেকেই। ইকোনিট টেক্সটাইলের অপারেটর শাহিনুর বেগম বলেন,ভোরে বাইর হই,জানি না সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে পারব কিনা। গত কয়েক মাস আগে আমার সাথে কাজ করা রহিমা আপা বাসের ধাক্কায় মারা গেছে। তার ২টা ছোট বাচ্চা এতিম হইছে। একটা ব্রিজের জন্য আর কত লাশ লাগবে।
সুপারভাইজার মোঃ কামাল হোসেন বলেন,শুধু ইকোনিট টেক্সটাইলেই ৪০০০ হাজার শ্রমিক। আশপাশের সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি লোক এই পয়েন্ট দিয়া পার হয়। নিকটতম ফুটওভার ব্রিজ চন্দ্রা ত্রিমোড়ে-১ কিমি দূরে। কেউ এতদূর ঘুরে যায় না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন,ফায়ার সার্ভিসের সামনে শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। শ্রমিকরা যদি সম্মিলিতভাবে আমার কাছে আবেদন করে তাহলে আমরা সওজকে ডিও লেটার দিবো। আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে ফুটওভার ব্রিজের কাজ করে দিতে পারে।
কালিয়াকৈর গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ফুটওভার ব্রিজের কাজ শুরু না হলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব। লাশের মিছিল আর দেখতে চাই না।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom