মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছে রাজশাহীতে আমের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের মুখোশধারীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ আহত ১০ নাগরপুরে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন অ্যাডমিট জট কাটিয়ে পরীক্ষায় বসেছে সড়ক অবরোধ করা ৬৫ শিক্ষার্থী IPL 2026: ‘It’s not a Hardik Pandya problem’- MI skipper hits back on Jasprit Bumrah debate | Cricket News কালিয়াকৈরেএস এস সি পরীক্ষার্থীদের পাশে এমপি মজিবুর রহমান, শুভেচ্ছা ব্যানারে দলীয় বার্তা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে খাদ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট নিরসনে কোস্ট গার্ডের অভিযান চীনের ‘ওয়ান চায়না পলিসি’তে মির্জা ফখরুলের সমর্থন Is Thalapathy Vijay’s Divorce With Sangeetha Delayed To June 15, 2026? Here’s What We Know | Tamil Cinema News

কালিয়াকৈরে ১২হাজার টাকার চাকরি থেকে ১২কোটি টাকার সম্পদ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৬৫ সময় দেখুন
কালিয়াকৈরে ১২হাজার টাকার চাকরি থেকে ১২কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিয়াকৈর (গাজীপুর):

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় স্বল্প আয়ের চাকরি থেকে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো:সায়েদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ লাভলু হোসেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন তিনি। শুরুতে তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ১২ হাজার টাকা, যা পরবর্তীতে ১৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। তবে একই সময়ে তার সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আর্থিক সংকটে পড়া সাধারণ মানুষকে উচ্চ হারে সুদে টাকা ধার দেওয়ার মাধ্যমে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন করতেন। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং একপর্যায়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছে।
ভূমি রেকর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চন্দরা মৌজার আরএস ১২২১ নম্বর দাগে তার নামে দুইটি দলিলে মোট ৪৪.৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে (দলিল নং ১১৩৫০,রেজিষ্ট্রেশন:০৩/০৯/২০২৩ ), দলিল নং ৩১৮২, রেজিস্ট্রেশন: ১২/০৫/২০২৫), যার বর্তমান বাজারমূল্য স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী আনুমানিক ১০ কোটি টাকা । একই দাগে তার স্ত্রীর নামেও প্রায় ৯.৫০ শতাংশ জমি রয়েছে (দলিল নং ৬৭৩৮, রেজিস্ট্রেশন: ০৩/০৮/২০২৫) যার মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
এছাড়াও, উলুসারা মৌজায় ৫ শতাংশ ও চান্দরা মৌজায় ৪.৬২ শতাংশ জমি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ৮০ লক্ষ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার হাতে নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং মোট নেট সম্পদ উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাস্তব সম্পদের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি এবং আয়কর নথিতে সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়নি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, তার নামে একাধিক ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট ও লেনদেন থাকতে পারে।

ভুক্তভোগী মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন আমি তারদের কাছ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম যার বিনিময়ে সুদ হিসেবে আরো ৫০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি। পরবর্তীতে আমি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে লাভ দিতে পারতেছিলানা তাই তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং কি আমাকে আটকে রাখে। তারা পরবর্তীতে আমার নামে উলুসারা মৌজায় ৫ শতাংশ জমি ছিল তা লিখে দিতে বাধ্য করে। তারা আমার কাছে যে টাকা পাবে আমার জমির চাইতেও জমির দাম ৫ লক্ষ টাকা বেশি ছিল এখন পর্যন্ত সে পাঁচ লক্ষ টাকা আমাকে ফেরত দেয়নি।

আরেকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বলে জানায় আমি চল্লিশ লক্ষ টাকা নিয়েছি লাভ হিসেবে প্রায় ১ কোটি টাকা উপরে পরিশোধ করেছে। আমার কাছে এখনো টাকা পাবে আমি পরিশোধ করতে পারিনি।

শরিফা বেগম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন লাভলু সম্পর্কে আমার চাচা আমি ওর মার্কেটে দোকান করতাম ও মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত লাভ তো নিতই টাকা কাছে নাই বিকাশে আনতে হবে বলে আরো অতিরিক্ত টাকাও নিত। এইভাবে অনেককে নিঃস্ব করেছে। তিনি আরো বলেন এই মার্কেটে অনেকগুলো ট্রান্সপোর্টের অফিস রয়েছে এই অফিসগুলোতে পুতি লাখে দিনে ১ থেকে ২ হাজার টাকা লাভে টাকা লাগিয়ে থাকে। ও এবং ওর ফ্যামিলির বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে অর মামার রাজনৈতিক প্রভাব ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক আরেকজন বলেন ওর আপন ভাইরা সাইফুদ্দিন এর কাছে ২৫ লক্ষ টাকা রয়েছে ট্রান্সপোর্ট গুলোতেও প্রায় ২০ লক্ষ টাকা রয়েছে আরো ২-৩ লক্ষ টাকা করেতো লোকজনের হিসাবেই নাই। ওদের বিচার হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোহাম্মদ লাভলু হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর যেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এই দাবি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে উচ্চ সুদে অর্থ লেনদেন আইনত দণ্ডনীয়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom