নিজস্ব প্রতিবেদক : মানব ও অর্থপাচারের দায়ে কুয়েতের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের এমপি পদ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৮ জুন) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
এর আগে পাপুলের এমপি পদ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন তাঁর বোন নুরুন্নাহার বেগম। রিটে লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়।
এর আগে কুয়েতের আদালতে শাস্তির রায় ঘোষণার পর গত ২৮ জানুয়ারি পাপুলের সংসদীয় পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সংসদ সচিবালয়। এরপর আগামী ২১ জুন সেখানে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম কুয়েতের ফৌজদারি আদলতে গত ২৮ জানুয়ারি তারিখে ৪ চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য নন। সে কারণে সংবিধানের ৭(১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ থেকে তার আসন (২৫ লক্ষ্মীপুর-২) শূন্য হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮(৪) বিধি অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের আসন শূন্য সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।
পরে এই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংসদ সদস্যের বিদেশে আটক ও ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পর এমপি পদ হারানোর ঘটনা এটিই প্রথম।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন কুয়েতের একটি আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল বা ৫৩ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। গত বছরের ৬ জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে আটক করা হয় পাপুলকে। আটকের সাড়ে সাত মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।