মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

বাইকের মাইলেজ বাড়ানোর উপায়

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ২৪০ সময় দেখুন
বাইকের মাইলেজ বাড়ানোর উপায়


বর্তমান সময়ে জ্বালানির উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাতায়াত খরচ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তাদের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় ফুয়েল ট্যাংকে। তবে রাইডিংয়ের কিছু সাধারণ অভ্যাস এবং বাইকের যত্নে সামান্য পরিবর্তন আনলে জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। আপনার মোটরবাইকের জ্বালানি সাশ্রয় করতে নিচে ৫টি দারুণ কৌশল তুলে ধরা হলো…

নিয়ন্ত্রিত গতি ও সঠিক গিয়ারের সমন্বয়

হুটহাট গতি বাড়ানো কিংবা হুট করে ব্রেক করার অভ্যাস ইঞ্জিনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে যায়। অনেকে ভুল গিয়ারে বাইক টানেন, যা মাইলেজ কমিয়ে দেয়।

করণীয়: বাইক চালানোর সময় থ্রটল বা পিকআপ ধীরে ধীরে বাড়ান। ইঞ্জিনের আরপিএম (RPM) বা গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক সময়ে গিয়ার পরিবর্তন করুন। মসৃণ রাইডিং ফুয়েল ইকোনমি বা জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করে।

টায়ারের হাওয়া বা এয়ার প্রেশার নিয়ন্ত্রণ

বাইকের মাইলেজ কমে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো চাকায় পর্যাপ্ত হাওয়া না থাকা। টায়ারে বাতাস কম থাকলে রাস্তার সাথে চাকার ঘর্ষণ ও বাধা বেড়ে যায়। ফলে বাইকটিকে টেনে নিতে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত তেল পুড়াতে হয়।

করণীয়: প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যানুয়াল অনুযায়ী সামনের ও পেছনের চাকার হাওয়া চেক করুন। সঠিক এয়ার প্রেশার বজায় রাখলে ইঞ্জিন অনায়াসে চলতে পারে এবং তেল সাশ্রয় হয়।

যানজটে অলস ইঞ্জিন বন্ধ রাখা

শহরের ট্রাফিক সিগন্যালে বা জ্যামে পড়ে দীর্ঘ সময় বাইক স্টার্ট দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে প্রচুর তেল অপচয় হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো জায়গায় যদি আধা মিনিটের বেশি সময় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে ইঞ্জিন চালু রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

করণীয়: লম্বা সিগন্যালে পড়লে চাবি ঘুরিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। বর্তমানে অনেক আধুনিক স্কুটার ও বাইকে ‘আইডল স্টার্ট-স্টপ’ প্রযুক্তি থাকে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই কাজটি করে তেল বাঁচায়।

এয়ার ফিল্টার ও চেইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

অপরিচ্ছন্ন এয়ার ফিল্টারের কারণে ইঞ্জিনে ঠিকমতো বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। ফলে অক্সিজেন ও ফুয়েলের মিশ্রণ ঠিকঠাক না হওয়ায় ইঞ্জিন বেশি তেল টানে। একইভাবে চেইন জং ধরা বা আলগা থাকলে শক্তির অপচয় হয়।

করণীয়: নির্দিষ্ট কিলোমিটার পরপর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করুন বা প্রয়োজনে বদলে ফেলুন। বাইকের চেইন নিয়মিত পরিষ্কার করে লুব্রিকেন্ট বা চেইন অয়েল ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত ভর কমানো ও নিরাপদ পার্কিং

মোটরসাইকেলের ওপর যত বেশি ওজন চাপানো হবে, ইঞ্জিনকে সচল রাখতে তত বেশি শক্তির প্রয়োজন হবে। এছাড়া, কড়া রোদে দীর্ঘক্ষণ বাইক রাখলে ফুয়েল ট্যাংক গরম হয়ে ভেতরের তেল বাষ্প আকারে উড়ে যেতে পারে।

করণীয়: বাইকে অপ্রয়োজনীয় ভারী মালামাল বহন করা থেকে বিরত থাকুন। বাইরে কোথাও পার্ক করার সময় সরাসরি রোদ এড়িয়ে কোনো ছায়াযুক্ত স্থান বেছে নিন, যাতে তেলের বাষ্পীভবন রোধ করা যায়।

স্মার্ট রাইডিংয়ের এই নিয়মগুলো মেনে চললে কেবল পকেটের টাকাই বাঁচবে না, বরং বাইকের ইঞ্জিন দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এবং ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom