সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান ইশরাকের

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৯ সময় দেখুন
ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান ইশরাকের


ঢাকা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশপন্থী শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর যারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে কখনোই চায়নি, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা আবার নতুন করে রাজনীতির মাঠে নেমেছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকেও একটি বিশেষ গোষ্ঠী ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় এবং মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

তিনি জানান, ওই সময় তিনি নিজে কারাবন্দি ছিলেন। তবে সংবাদপত্র, ভিডিও এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পরিস্থিতির খবর রাখতেন। সে সময় কোথাও তিনি এমন কোনো দলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা দেখেননি, যারা আজ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে এবং ১৯৭১ সালের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘হঠাৎ করে কিছু রাজনৈতিক শক্তি ‘নতুন রিপাবলিক’সহ নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস—এই দুটি জাতীয় দিবসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো দুঃসাহস তারা দেখিয়েছে। এসব বিষয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট এবং জিরো টলারেন্স।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা আসলে স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মানে না, তাদের এই দেশে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একবার-দুবার ভুল করে কিছু বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বক্তব্য একটি দলের রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটি আর দুর্ঘটনা থাকে না, সেটি বিশ্বাসে রূপ নেয়। আর সেই বিশ্বাসই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, বাংলাদেশ আজ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশি ও বিদেশি নানা শক্তি এই অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে, যা আমাদের জন্য যেমন সুযোগ, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জও।

তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশে একটিই এজেন্ডা বাস্তবায়িত হবে—সবার আগে বাংলাদেশ। এর বাইরে কোনো এজেন্ডা মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, ধনী-গরিব সবাইকে সমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বাঁচার সুযোগ দেওয়াই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যেখানে দেশের ভূখণ্ড নিরাপদ থাকবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনে দেশ রক্ষার জন্য নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করে প্রস্তুত রাখার মতো সংগঠন গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরেই সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। যারা বাংলাদেশ চায়নি, যারা ষড়যন্ত্র ও দুঃসাহস দেখাচ্ছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নুসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom