ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এমতাবস্থায় জনগনকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব মানা নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা আসলে সবার মুখে ঠিকই মাস্ক থাকে। তবে প্রশাসন চোখের আড়াল হলেই মাস্ক চলে যায় থুতনিতে। কারও আবার চলে যায় পকেটে। অসচেতন মানুষজন সামাজিক দূরত্ব ভেঙে ফিরে যান স্বাভাবিক অবস্থায়। এ যেন প্রশাসন-জনগনের ইঁদুর বিড়াল খেলা।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলার সকল উপজেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ঠাকুরগাঁও সদরসহ প্রতিটি উপজেলায়।
জেলা-উপজেলাগুলোয় প্রতিদিনি হু হু করে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করলে করোনা পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হওয়ার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে গেলেও মানুষ তা মানতে নারাজ। ফাঁক পেলেই বিধি ভঙ্গের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ছে সবাই।
এদিকে, লকডাউন বাস্তবায়নে সকাল থেকেই মাঠে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শহরের প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড দিয়ে বসানো হয় পুলিশি চৌকি। তারপরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অটোভ্যান নিয়ে সবাই নিজের মতোই বের হচ্ছে। তবে সামনে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব ক্ষুদ্র যানবাহনের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। এমন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক। এছাড়া, নিয়ম অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও প্রীতম সাহা বলেন, ‘লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলার সর্বত্র প্রশাসনের তৎপরতা চলছে। আগের দিন বুধবার উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি পালন ও লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে মানুষের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। এক এলাকায় অভিযান চললে অন্য এলাকায় নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করে মানুষ।’