রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিজিবির অভিযানে ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ‘If I get picked…’: Shubman Gill sends message amid India T20 selection debate | Cricket News ‘জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্থপতি’ Is Suriya’s Suriya47 Connected To Fahadh Faasil’s Aavesham? Here’s What Naslen Said | Tamil Cinema News কৈলাসঘোনায় কর্মবীর সংস্কার কল্যাণ সংস্থার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প: ৬৭০ জন রোগী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া ও খাবার বিতরণ কালিয়াকৈর কোরবানি তিন দিন পার হলেও অপসারণ করা হয়নি কোরবানির বর্জ্য নাগরপুরে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে কালিয়াকৈরে হাজারো মানুষের ঢল-দোয়া, আলোচনা ও বস্ত্র বিতরণ জিয়ার শাহাদাৎবার্ষিকী একাত্তরের মার্চের বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করল ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন

সহপাঠী হিসেবে আশীর্বাদ, কপি-পেস্টে সর্বনাশ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭০ সময় দেখুন
সহপাঠী হিসেবে আশীর্বাদ, কপি-পেস্টে সর্বনাশ


একসময় পড়াশোনা মানেই ছিল বইয়ের পাতা উল্টে নোট নেয়া, খাতায় কলমের আঁচড় আর পরীক্ষার আগে নিজের মতো করে প্রশ্ন বানিয়ে অনুশীলন। সেই পরিচিত দৃশ্যে এখন যুক্ত হয়েছে এক নতুন ‘অদৃশ্য সহপাঠী’ চ্যাটজিপিটি সহ জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল। কয়েক সেকেন্ডেই জটিল প্রশ্নের ব্যাখ্যা, অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ কিংবা নতুন আইডিয়া হাজির করতে পারা এই প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন আমূল বদলে দিচ্ছে।

কিন্তু একই সঙ্গে ওঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- এআই কি শেখার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করছে, নাকি একাডেমিক সততার জন্য তৈরি করছে নতুন ঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটা প্রযুক্তিতে নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হলো এর সঠিক ব্যবহার ও সীমা নির্ধারণ।

কপি-পেস্ট নয়, নিজস্ব চিন্তাই আসল

চ্যাটবটের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ভাষা ও উপস্থাপন ক্ষমতা। সুগঠিত, যুক্তিসংগত ও পরিপূর্ণ উত্তরের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই তৈরি হচ্ছে সরাসরি কপি-পেস্টের প্রবণতা। কিন্তু শিক্ষাবিদরা বলছেন, এখানেই শেখার মূল উদ্দেশ্যটি হারিয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো তাদের নির্দেশনায় স্পষ্ট করেছে, এআই কখনোই শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা ও পরিশ্রমের বিকল্প হতে পারে না। পাঠ্যবই বা অন্যের লেখা যেমন নিজের নামে জমা দেয়া অনৈতিক, তেমনি চ্যাটবটের তৈরি উত্তর নিজের কাজ হিসেবে উপস্থাপন করাও একাডেমিক অসততার শামিল। এআই ধারণা পরিষ্কার করতে বা প্রাথমিক আইডিয়া পেতে সহায়ক হতে পারে, তবে চূড়ান্ত কাজ অবশ্যই শিক্ষার্থীর নিজস্ব হতে হবে।

অতিরিক্ত নির্ভরতায় কমে যেতে পারে শেখার দক্ষতা

এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইয়েল ইউনিভার্সিটির পুওরভু সেন্টার ফর টিচিং অ্যান্ড লার্নিং। তাদের মতে, এআই দিয়ে ব্যাখ্যা, সারসংক্ষেপ কিংবা আউটলাইন তৈরি করলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সহজ মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে শেখার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। নিয়মিত এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরা পরবর্তী পরীক্ষা বা মূল্যায়নে নিজস্ব দক্ষতার প্রমাণ দিতে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকে।

সহপাঠী বা স্টাডি বাডি হিসেবে এআইয়ের শক্তি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে এটিকে সহপাঠী বা স্টাডি এইড হিসেবে কাজে লাগানো। কঠিন বিষয় সহজ করে বোঝা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া কিংবা নিজেকে যাচাই করার ক্ষেত্রে এআই দারুণ সহায়ক।

ক্যালিফোর্নিয়ার এক হাইস্কুলের ইংরেজি শিক্ষক কেসি কুনি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে চ্যাটজিপিটি দিয়ে নিজেকে যাচাই করার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাস নোট, স্টাডি গাইড বা স্লাইড আপলোড করে নির্দিষ্ট অধ্যায় থেকে প্রশ্ন তৈরি করে কুইজ দিতে পারে, যা আত্মমূল্যায়নের একটি কার্যকর পদ্ধতি।

নিজের ভাষায় শেখার নতুন সুযোগ

এআই-ভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ফ্লিন্ট-এর প্রধান নির্বাহী সোহান চৌধুরীর মতে, চ্যাটজিপিটির ভয়েস ডিকটেশন ফিচার শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। কোনও বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থী কী বোঝে আর কোথায় আটকে যাচ্ছে তা যদি নিজের ভাষায় এলোমেলোভাবেও ব্যাখ্যা করে, এআই সেটি বিশ্লেষণ করে সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারে। এতে শেখার প্রক্রিয়া হয় আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যকর।

প্রতিষ্ঠানের এআই নীতিমালা জানা জরুরি

এআই ব্যবহারে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অভিন্ন নীতিতে পৌঁছাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্যে স্কুল পর্যায়ে এআই ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তার প্রয়োগ সর্বত্র সমান নয়।

যেমন, ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো জানিয়েছে- কোনও কোর্সে শিক্ষক স্পষ্ট অনুমতি না দিলে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা যাবে না। অন্যদিকে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলোতে কোনও সর্বজনীন নীতি নেই; শিক্ষকরা নিজ নিজ কোর্স অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।

স্বচ্ছতা ও নৈতিকতাই মূল চাবিকাঠি

শিক্ষকদের মতে, এআই এখন আর ‘ভয়ের বিষয়’ নয়। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতেই হবে। তাই এআই ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো স্পষ্টভাবে বলছে- আইডিয়া তৈরি, সারসংক্ষেপ লেখা বা খসড়া তৈরিতে এআই ব্যবহার করলে তা যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। বই বা ওয়েবসাইটের মতোই প্রয়োজনে এআই ব্যবহারের স্বীকৃতি দেয়া উচিত। এ বিষয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি জোর দিচ্ছে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর। তাদের মতে, এআই ব্যবহার করতে হবে সততা, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং একাডেমিক মান বজায় রেখে।

এআই পড়াশোনার শত্রু নয় বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি হতে পারে শেখার শক্তিশালী সহযাত্রী। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এটিকে শর্টকাট হিসেবে নেব, নাকি জ্ঞানকে আরও গভীর করার হাতিয়ার বানাব? শেখার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ঠিক এই সিদ্ধান্তের ওপর।

লেখক: ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, কমপিউটার বিচিত্রা





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom