স্মার্টওয়াচ এখন আর কেবল সময় দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আমাদের লাইফস্টাইলের একটা বড় অংশ। ফিটনেস ট্র্যাকিং, হার্ট রেট মাপা, কল-মেসেজের নোটিফিকেশন চেক করা থেকে শুরু করে ঘুমের হিসাব রাখা, সবই এখন হাতের মুঠোয়। বাজারে বোট (Boat), নয়েজ (Noise)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হাজারো অপশন থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। চকচকে বিজ্ঞাপন দেখে ভুল ঘড়ি কিনে পরে আফসোস করার চেয়ে, আসুন জেনে নেই, কেনার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি…
ফোনের সাথে মিল বা ‘কম্প্যাটিবিলিটি’ চেক না করা
একটি স্মার্টওয়াচ মূলত আপনার ফোনেরই একটা অংশ হিসেবে কাজ করে। তাই কেনার আগে নিশ্চিত হোন ঘড়িটি আপনার ফোনের অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট করে কি না। আপনি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হলে এমন ঘড়ি বাছুন যা অ্যান্ড্রয়েডের সাথে শতভাগ মানানসই। ঠিক একইভাবে, আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য iOS সাপোর্টেড স্মার্টওয়াচ কেনা বাধ্যতামূলক। এই মিল না থাকলে দামি ঘড়িও সাধারণ খেলনার মতো পড়ে থাকবে।
শুধু লুক বা ডিজাইনে মজে যাওয়া
অনেক সময় আমরা ঘড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্য বা প্রিমিয়াম লুক দেখেই সেটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। কিন্তু ভেতরের প্রযুক্তি বা সেন্সরগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা যাচাই করি না। মনে রাখবেন, দেখতে সুন্দর হলেই যে ঘড়িটি আপনার সব কাজের কাজি হবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই।
ফিচারের ভিড়ে আসল প্রয়োজন ভুলে যাওয়া
আজকাল স্মার্টওয়াচে হাজারো ফিচারের ছড়াছড়ি। কিন্তু ভেবে দেখুন, এর কয়টি আপনার রোজকার জীবনে কাজে লাগবে? কেউ হয়তো শুধু ফিটনেসের জন্য ঘড়ি কেনেন, কেউ আবার কলিং ফিচারের জন্য। তাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে অপ্রয়োজনীয় ফিচারের পেছনে অতিরিক্ত টাকা ঢালার কোনো মানে হয় না। আপনার ঠিক যা প্রয়োজন, সেই ফিচারগুলো যে মডেলে আছে সেটিই বেছে নিন।
আরামের বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়া
স্মার্টওয়াচ এমন একটি গ্যাজেট যা মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময়, এমনকি রাতে ঘুমানোর সময়ও কব্জিতে জড়িয়ে রাখে। তাই ঘড়ির ওজন, ডায়ালের সাইজ এবং স্ট্র্যাপের উপাদানের দিকে নজর দিন। কারো সিলিকন স্ট্র্যাপ পছন্দ হতে পারে, আবার কেউ মেটাল বা লেদার পছন্দ করতে পারেন। দীর্ঘক্ষণ পরে থাকার জন্য আপনার ত্বকের সাথে যেটি আরামদায়ক, সেটিই কিনুন।
বাজেটের হিসাব গড়মিল করা
বাজারে বাজেট-ফ্রেন্ডলি থেকে শুরু করে চড়া দামের প্রিমিয়াম স্মার্টওয়াচ—সবই পাওয়া যায়। প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলো ব্র্যান্ড ভ্যালু ও নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জন্য দাম বেশি নেয়, আবার সাশ্রয়ী ব্র্যান্ডগুলো কম দামেও দারুণ সব ফিচার অফার করে। তাই প্রথমেই নিজের বাজেট ও চাহিদার একটি সমীকরণ তৈরি করুন, তাহলে সঠিক গ্যাজেটটি বেছে নেওয়া সহজ হবে।