সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আইএমএফ’র সঙ্গে ৩ বছর মেয়াদে নতুন চুক্তি করবে সরকার

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ৩৩ সময় দেখুন
আইএমএফ’র সঙ্গে ৩ বছর মেয়াদে নতুন চুক্তি করবে সরকার


ঢাকা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি থেকে বেরিয়ে তিন বছর মেয়াদি নতুন আরেকটি চুক্তি করতে চায় সরকার। নতুন চুক্তির বিষয়ে ইতোমধ্যে সংস্থাটিও আগ্রহ দেখিয়েছে। খু্ব শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার (২৫ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরচালক নাইজেল ক্লার্ক-এর মধ্যে একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সহযোহিতার বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান ঋণ কর্মসূচি থেকে বের হয়ে নতুন কাঠামোর ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে অর্থমন্ত্রী সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, চলমান আইএমএফ কর্মসূচিটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। নতুন এ কর্মসূচিতে তিন বছরের একটি বাস্তবভিত্তিক সময়সীমার মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আইএমএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরচালক নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফ-এর গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চলমান ৪৭০ ডলারের ঋণ চুক্তিটি করেছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ চু্ক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে চার কিস্তির অর্থ ছাড় হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ঋণ ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সভায় সংস্থাটি জানায়, সংস্কার কার্যক্রমে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে না। বিশেষ করে ভ্যাট হার পরিবর্তন, কর ছাড় কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার এবং ব্যাংক খাতের সুনির্দিষ্ট সংস্কার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দেয়। বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় আগামী জুনে বাংলাদেশের ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার কথা ছিল। তবে সংস্কার নিয়ে আইএমএফের অসন্তোষের কারণে সেই অর্থ ছাড় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, আইএমএফ-এর শর্তানুযায়ী ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধন ও এনবিআর পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন সরকার তাদের নিজস্ব কৌশলে এগোতে চায়। নতুন কর্মসূচির আওতায় আইএমএফ-এর কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ নিতে চায় সরকার। নতুন ঋণ কর্মসূচির রূপরেখা ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে জুলাই বা আগস্ট মাসে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom