কক্সবাজারে মানব পাচার ও বাল্যবিবাহের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সমন্বিত সেবা নিশ্চিতকরণে “জেলা রেফারেন্স ডিরেক্টরি প্রণয়ন” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তাসনীম জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ কামরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজার।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত বড়ুয়া, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসাইন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাসান মাসুদ, সারভাইভারদের পরিবারের সদস্যদের কর্ম-সহায়তা ব্যবস্থা করা পরবর্তী প্রকল্পের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহানারা ইসলাম এবং মোঃ নজরুল ইসলাম মজুমদার, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক, ব্র্যাক রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ইউনিট।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপসার উপপরিচালক ও আঞ্চলিক প্রধান মোঃ শহিদুল ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন ইপসার ফোকাল পার্সন মোহাম্মদ হারুন।
কর্মশালার শুরুতে ইপসার পরিচিতিমূলক পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইপসার সহকারী পরিচালক যীশু বড়ুয়া। তিনি সংগঠনের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও দীর্ঘদিনের মানবিক উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে USDOS Fight Slavery and Trafficking-in-Persons (FSTIP) প্রোগ্রামের আওতায় প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক হোসেন আরা রেখা। তিনি জানান, প্রকল্পের মাধ্যমে মানব পাচার ও বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা নারী, শিশু ও কিশোরীদের সনাক্তকরণ, আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুনর্বাসন এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে জেলা রেফারেন্স ডিরেক্টরি প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাসনীম জাহান বলেন, মানব পাচার ও বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এ থেকে উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জেলা রেফারেন্স ডিরেক্টরি প্রণয়ন হলে ভুক্তভোগীরা দ্রুত ও যথাযথ সেবা পেতে সক্ষম হবেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মানব পাচার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ এবং সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহত করা জরুরি। জেলা পর্যায়ে একটি সমন্বিত রেফারেন্স ডিরেক্টরি থাকলে সেবাগ্রহীতারা সহজেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, ইপসা দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করছে। মানব পাচার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি কার্যকর সেবা-সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ কর্মশালার মূল লক্ষ্য।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, জেলা রেফারেন্স ডিরেক্টরি প্রণীত হলে মানব পাচার ও বাল্যবিবাহের শিকার ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইপসার প্রোগ্রাম অফিসার (লাইভলিহুড) আবিদুর রহমান, মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (এমঅ্যান্ডই) অফিসার ফওজিয়া হাসনাত চৈতি, কাউন্সেলর ও কেস ম্যানেজমেন্ট অফিসার শায়লা মোস্তফা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ইপসা এফএসটিআইপি প্রোগ্রাম ২০০৯ সাল থেকে মানব পাচারের শিকার সারভাইভারদের রিইন্টিগ্রেশনে কাজ করছে।