সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

কর্ণফুলীতে “হাত কাটা বাইল্লা’র” বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষদের হয়রানির অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৭৫৮ সময় দেখুন
কর্ণফুলীতে “হাত কাটা বাইল্লা’র” বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষদের হয়রানির অভিযোগ

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ‘হাত কাটা বাইল্লে’ নামে পরিচিত আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সম্প্রতি পুলিশ উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, তাতে বিরোধের পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। বরং নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আহমদ বলির বাড়ির আরএস ৯৯০ এবং বিএস ৫৪৯/৫৫০ নম্বরভুক্ত জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জমিটির ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা সুলেমান কবির ও হুমায়ুন কবিরের পরিবাররা। বৈঠকে মালিকপক্ষ আবুল বশরকে জমিটি ভোগদখল করে ঘরের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার মৌখিক অনুমতি দেয় এবং আবুল হাশেমকে এতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানায় এবং বৈঠকে উপস্থিত সবাই তাতে সম্মতি জানায়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আবুল বশর কাজ শুরু করলে আবুল হাশেম থানায় অভিযোগ দায়ের করে তা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেশী আবদুল মান্নান বলেন, “আমি ক্রয়সূত্রে পাশের জমির মালিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আবুল হাশেম আমার জমিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছেন।”

আবুল হাশেমের আত্মীয় মোহাম্মদ হানিফ অভিযোগ করেন, তিনি স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এক ঘটনায় জনগণ তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকেই তিনি ‘হাত কাটা বাইল্লে’ নামে পরিচিত।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার দায়িত্বরত এসআই পরিতোষ জানান, “শুক্রবার স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। কোনো কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুলিশের নয়—এটি আদালতের এখতিয়ার।”

আবুল হাশেম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে বসবাস করে আসছেন। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, পূর্ববর্তী এক বৈঠকে তিনি জমিটির মালিকানা অস্বীকার করে ভবিষ্যতে প্রকৃত মালিক এলে সরে যাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। কখনো পৈত্রিক, আবার কখনো ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করে পরবর্তীতে তা থেকে সরে আসার ঘটনাও রয়েছে—যা নিয়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom