শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে ৩৫ টি পোশাক কারখানা বন্ধ উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯১ সময় দেখুন
কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে ৩৫ টি পোশাক কারখানা বন্ধ উৎপাদনে  মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় হরতকীতলা এলাকার একটি কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিককে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় ৩৫টির বেশি শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাসের স্থানীয় কার্যালয়।

গত বুধবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে হরতকীতলা এলাকায় অবস্থিত নুরু গ্রুপের রাইয়্যান নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্যাসের চাপ না থাকায় কোনো মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

কারখানাটির জিএম জহিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ৯টার পর থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে যায় যে একটি মেশিনও চালানো সম্ভব হয়নি। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিককে ছুটি দেওয়া হয়।

৩৫টির বেশি কারখানার কার্যক্রম স্থবির
তিতাস গ্যাসের কালিয়াকৈর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলোও তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছে।

স্থানীয়ভাবে ৩৫টির বেশি শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।চন্দ্রা, মৌচাক ও কালিয়াকৈরসহ গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও উৎপাদন আংশিকভাবে চলছে, আবার কোথাও বয়লার ও উৎপাদনযন্ত্র চালানো সম্ভব না হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

চাকরি হারানোর আতঙ্কে শ্রমিকরা

গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে শিল্পমালিকদের লোকসান বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পমালিকদের ভাষ্য, উৎপাদন কমে গেলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, ব্যাংকঋণের কিস্তিসহ নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্পকারখানার পাশাপাশি কালিয়াকৈরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতেও ভোগান্তি বেড়েছে।

জাতীয় গ্যাস সংকটের প্রভাব কালিয়াকৈরে

গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএনজি সরবরাহ ও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পচাপ শূন্যচাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্পমালিক ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক করে বন্ধ ও স্থবির হয়ে পড়া কারখানাগুলো সচল রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
Ads by coinserom