জাহেদুল ইসলাম, প্রতিনিধি কুতুবদিয়া উপজেলা,কক্সবাজার।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে শিশু, নারী ও পুরুষ রোগীদের একসঙ্গে রাখা এবং জরুরি বিভাগে সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) ভোরে এক রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ একঘণ্টা অপেক্ষা করেও ইমার্জেন্সি বিভাগে কোনো চিকিৎসক পাননি তারা। এতে চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে গিয়ে তারা কোনো চিকিৎসক পাননি। সেখানে একজন সহকারী কর্মচারী পুরো জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
রোগীর স্বজনরা জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসককে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি দূর থেকে অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি হাসপাতালে আসেননি। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে স্বজনরা হাসপাতালে হৈচৈ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় একঘণ্টা পর চিকিৎসক এসে রোগী দেখেন এবং উল্টো স্বজনদের বকাঝকা করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. গোলাম মারুফ বলেন, “রোগীটি হাসপাতালে আসার দুই-চার মিনিট আগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেহরি খেতে গিয়েছিলেন। নতুন হওয়ায় তিনি বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি।”
অন্যদিকে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। যদি কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার এমন অব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।