নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে (সেজান জুসের কারখানা) অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহতের ঘটনায় চেয়ারম্যান-এমডিসহ ৮ জনকে আটকের পরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। পরে সেখানে তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
গ্রেপ্তার আটজন হলেন- সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩), তানজীম ইব্রাহীম (২১), শাহান শান আজাদ (৪৩), মামুনুর রশিদ (৫৩) ও মো. সালাউদ্দিন (৩০)।
শনিবার (১০ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খানমের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, হত্যা ও হত্যার অভিযোগে ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭ ধারায় আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং এ মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এরা আগে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ওই কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এরইমধ্যে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কেউ যদি সামান্যতম এই ঘটনায় ভুলভ্রান্তি করে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে। কারখানার আগুনের ঘটনায় মামলা হবে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার হবে। ইতিমধ্যে আটজনকে আটক করা হয়েছে। গাফিলতি বিন্দুমাত্র থাকলে কারো ছাড় নেই।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ও মর্মান্তিক। যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত করছি এবং আশা করছি যারা অসুস্থ তারা ফিরে আসবেন। এদিকে ভবন মালিক নিখোঁজ থাকলেও আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। সেই রাতেই মারা যান ৩ জন। শুক্রবার দুপুরে কারখানার ভেতর থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।