জয়নাল আবেদীন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
২০০৬ সালে কক্সবাজারের পেকুয়ার এক সনামধন্য পরিবারে বিবাহিত জীবন শুরু করেন আফরিন সুমি। সুখী পরিবার, স্বচ্ছল জীবন—সবকিছুই সুন্দরভাবে চলছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে শুরু হয় তার জীবনের কঠিনতম অধ্যায়। বড় ছেলে সায়ান চৌধুরীর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। সায়ান তখন কক্সবাজার বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মাত্র।
কক্সবাজার থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম ইম্পেরিয়াল, ঢাকা ডেল্টা ক্যান্সার হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা চলে। কেমোথেরাপি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট—সবকিছু করার পরও শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সন্তানকে হারাতে হয় তাকে।
এই লড়াইয়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি। পরিবারকে টিকিয়ে রাখার দায় থেকেই শুরু করেন উদ্যোগতার পথচলা। প্রথমে এক ডজন ফ্রোজেন সমুচা দিয়ে শুরু করে দিন-রাত নিরলস পরিশ্রমে ব্যবসাকে এগিয়ে নেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষতা বাড়ান।
খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের ব্র্যান্ড ঘরোয়া স্বাদ by Afrin Sumi প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় পিঠা উৎসব, বিচ কার্নিভাল, বইমেলা,সিইসি মেলা, পহেলা বৈশাখ মেলা, হোটেল রামদার ফুড ফেস্টিভ্যালসহ অসংখ্য মেলায় অংশ নিয়ে ব্র্যান্ডকে পরিচিত করেন। সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছেন তিনি।
তার পরিশ্রম ও সফলতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
* ২০২২ সালে মায়াবিনী বিজনেস পয়েন্ট উদ্যোক্তা সম্মাননা**
* ২০২৩ সালে জাতীয় পিঠা উৎসবে দ্বিতীয় স্থান
* ২০২৪ সালে Diva Organisation Successful Entrepreneur Award
* ২০২৫ সালে Women Tourism Leaders Award
শুধু খাবারের ব্যবসা নয়, মানবসেবার দিকেও এগিয়ে এসেছেন আফরিন সুমি। তিনি একটি সেবামূলক মেডিসিন ফার্মেসি চালু করেছেন। বর্তমানে এনজিও ফুড ভেন্ডর, ক্যাফেটেরিয়া ও ফার্মেসি ব্যবসা একসাথে পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি ব্র্যাকের মেন্টর হিসেবেও কাজ করছেন।
ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে শক্তিতে পরিণত করে আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন সফলতার দ্বারপ্রান্তে। আফরিন সুমি প্রমাণ করেছেন, শূন্য থেকে শুরু করলেও সাহস, পরিশ্রম আর অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য ধরা দেয়ই।