শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন

অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশের আগেই মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ শেষ!

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১১৪ সময় দেখুন
অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশের আগেই মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ শেষ!


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এ মাসের ৮ তারিখে মাস্টার্সে ভর্তির শেষ সময় ছিল হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই সময়সীমার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ইংরেজি আর অর্থনীতি বিভাগসহ অনেক বিভাগের শিক্ষার্থী নির্ধারিত ওই সময়ের মধ্যে মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারেননি। কেননা অনার্সের চূড়ান্ত রেজাল্টই প্রকাশ হওয়ার আগেই শেষ হয়েছে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— মাস্টার্সে ভর্তির সার্কুলার এর আগে জুলাই ও ডিসেম্বরে দেওয়া হতো। এবার জুলাইয়ের সার্কুলার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সেপ্টেম্বরে। কিন্তু রেজাল্ট নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হয়নি। এর পেছনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের গাফিলতি দায়ী।

 সময়মতো মাস্টার্সে ভর্তি হতে না পারায় শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ডিসেম্বরের সার্কুলারের জন্য। এদিকে অনার্সের রেজাল্ট প্রকাশ ও মাস্টার্সে ভর্তির সময়সীমা এক মাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তাতে কর্ণপাত করছে না প্রশাসন। এমন অবস্থায় আন্দোলন শুরু করেছেন মাস্টার্স বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ ও অনুষদের অনার্স শেষ বর্ষের ফলাফল প্রকাশ ও অকৃতকার্য কোর্সের শর্ট পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ার আগেই মাস্টার্সের সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে। তাই ফর্ম পূরণের শেষ সময়সীমার মধ্যে কিছু অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হতে পারেননি।

ইংরেজি আর ইকোনোমিকস ডিপার্টমেন্ট ছাড়াও ভার্সিটির বেশ কয়েকটি ডিপার্টমেন্ট এই মাস্টার্স সার্কুলারের অধীনে ভর্তি হতে পারছে না। কারণ তাদের রেজাল্ট প্রকাশ হয়নি। অথচ করোনা পরবর্তী সময়ে ৪ মাসে সেমিস্টার শেষসহ ১৫ দিনে রেজাল্ট দেওয়ার কথা থাকলেও তারা দেয়নি। সময়মতো রেজাল্ট প্রকাশ করা হলে এই বিড়ম্বনায় পড়তে হতো না বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।

শিক্ষার্থীরা জানান, করোনার কারণে সেশনজট হয়েছে। ১ বছরের কোর্স শেষ করতে বাড়তি ৩/৪ মাস লাগছে। পাশাপাশি সময়মতো মাস্টার্সে ভর্তি হতে না পারলে স্টাডি গ্যাপ হবে। এমন অবস্থায় মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক সন্তান হয়ত মাস্টার্স শেষ না করেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে নেবেন।

উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে তারা নিজ নিজ বিভাগীয় ও অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সর্বশেষ ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সঙ্গেও কথা বলেছেন সংক্ষুব্ধরা। শিক্ষক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও তা শিক্ষার্থীদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি।

এ ব্যাপারে ইংরেজি বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম বলেন, ‘রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার আগেই মাস্টার্সের ফর্ম ওঠানোর সময়সীমা শেষ। এ কারণে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী যারা শর্ট পরীক্ষা দিচ্ছে তারা মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারছে না। আমাদের দাবি, অন্ততপক্ষে এক মাস সময় দিয়ে আমাদের শর্ট পরীক্ষার রেজাল্ট ও চূড়ান্ত  রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পর মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হোক।’

কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মুশফিক বলেন, ‘মাস্টার্সের উইন্টার সেশনের যখন সার্কুলার দেওয়া হয় তখন বেশ কয়েকটি অনুষদের অনার্স শেষ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষাই শেষ হওয়া বাকি থাকে। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী এই সেশনের মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান না। যদি দায়িত্বরত শিক্ষকদের অবহেলার কারণে জুন-জুলাই মাসে শুরু হতে যাওয়া সেশন দুই মাস পিছিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হতে পারে তাহলে কেন শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ আরও কিছুদিন পেছানো যাবে না?’

পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, ‘মাস্টার্সে ভর্তির সময়সূচি আমার যোগদান করার আগেই প্রকাশ হয়েছে। আমি যতটুকু জানি, আগস্ট মাসের ২৫ তারিখ আবেদন করার শেষ তারিখ ছিল ও ৮ সেপ্টেম্বর ভর্তি হওয়ার শেষ তারিখ ছিল। এর মধ্যে সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগ ও এগ্রিকালচার অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘এগ্রিকালচার অনুষদের শিক্ষার্থীদের অনার্সের পরীক্ষা শেষ হলেও তারা রেজাল্ট পায়নি। যার কারণে তারাও আবেদন করতে পারেনি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স কোর্স বছরে দুইবার চালু থাকে এবং আমাদের এটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। বর্তমানে মাস্টার্স কোর্সের ক্লাস ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে।’

ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, ‘যেহেতু মাস্টার্সে ভর্তির সময়সীমা শেষ হয়েছে। আপাতত ভর্তির সময়সীমা বাড়ানো কষ্টসাধ্য। তারপরও বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করছি।’

সারাবাংলা/একে





Source link

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর