#মুম্বই: যে কোনও ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় চরিত্র নিয়ে ছবি করলেই সবার আগে সরব হয়ে ওঠে করণী সেনা। কেউ বলুক বা না বলুক, ভারতের সংস্কৃতি রক্ষার দায় তারা নিজেরাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। পপকর্ন খেতে খেতে ছবির মজা উপভোগ করা দর্শক বুঝতেই পারবেন না যে এদের জন্য ছবির প্রযোজক বা পরিচালককে কী কী সহ্য করতে হয়। এই দন্তশূল মার্কা ব্যথা হাড়ে হাড়ে জানেন সঞ্জয় লীলা বনশালি (Sanjay Leela Bhansali)। তাঁর ছবি পদ্মাবতকে (Padmavat) নিয়ে তাণ্ডব করেছিল এই সেনা। শুধু তাই নয়, এরা হুমকি দিয়ে রেখেছিল যে ভবিষ্যতেও তারা সজাগ থাকবে এবং এরকম কোনও বেচাল দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে।
তা মিথ্যে বলব না, তারা কথা রেখেছে। এবার তাদের নিশানায় রয়েছে অক্ষয় কুমারের (Akshay Kumar) ছবি পৃথ্বীরাজ (Prithviraj)। আর পদ্মাবতী থেকে পদ্মাবত যে কারণে করা হয়েছিল, দাবি সেটাই করা হয়েছে আবার। অর্থাৎ বলা হয়েছে ছবির নাম পাল্টে ফেলতে হবে। ছবির পরিচালক চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদী (Chandraprakash Dwivedi) বলেছেন যে পৃথ্বীরাজ একটি ঐতিহাসিক চরিত্র সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু তাঁর ছবির চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে মধ্যযুগের বিখ্যাত কাব্যগাথা পৃথ্বীরাজ রাসো অনুযায়ী। চাঁদ বরদাই ছিলেন পৃথ্বীরাজ চৌহানের সভাকবি বা রাজকবি। রাজার বীরগাথা নিয়ে তিনি এই কাব্যগাথা লিখেছিলেন। পরিচালক সম্ভবত এটাই বলতে চেয়েছেন যে এই জাতীয় রাজকবি বা সভাকবিরা রাজাকে তুষ্ট করতে অনেক কল্পনা ও অতিরঞ্জিত ঘটনার আশ্রয় নেন। সেখানে ঐতিহাসিক তথ্য বিশেষ একটা থাকে না। তাছাড়া পৃথ্বীরাজ ও সংযুক্তার প্রেমকাহিনীও অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফলে সেই সময় এই রাজাকে নিয়ে অনেক গল্পগাথা লেখা হয়েছিল।
সে পরিচালক যাই বলুন না কেন, কমলি নেহি ছোড়তি! করণী সেনার পক্ষ থেকে সুরজিৎ সিং রাঠোর বলেন যে কিংবদন্তী রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানকে নিয়ে ছবি হচ্ছে অথচ ছবির নাম শুধুই পৃথ্বীরাজ? এতে রাজা চৌহানকে অপমান করা হচ্ছে বলেই দাবী করেছেন সুরজিত। তার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটাও বলেন যে ছবির নাম পাল্টে পৃথ্বীরাজ চৌহান রাখতে হবে নাহলে পদ্মাবতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে পদ্মাবতের সেট লণ্ডভণ্ড করেছিল এই সেনা। পরিচালককে চড় মারা থেকে শুরু করে দীপিকা পাড়ুকোনকে (Deepika Padukone) নিশানায় রাখা সবই করা হয়েছিল। এটি অক্ষয়ের প্রথম ঐতিহাসিক কস্টিউম ড্রামা। এই ছবি দিয়েই ডেবিউ করছেন মিস ওয়ার্ল্ড মানুষী চিল্লর (Manushi Chhillar)। তবে ছবির ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখন অনেকটাই সেনাবাহিনীর হাতে!