কর্ণফুলী চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে বাউন্ডারি ভেঙে বালু দিয়ে জায়গা ভরাট করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুনির আহমেদ সওদাগর সড়ক সংলগ্ন এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি সরকারি গাছ কেটে ফেলা হয়। একই সময়ে একটি জায়গার বাউন্ডারি ভেঙে সেখানে বালু ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। এ ডব্লিউ আর রিয়েল এস্টেটের জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা কিলার আবছার, এটিএম হানিফ, আবদুন নূর, আবছারের তিন ছেলে নজিবুল হক শাওন, মো. সজিব ও মো. সৌরভ, ভাগিনা মো. বেলাল এবং মো. রুবেল ওরফে ‘কিলার খাট্টা রুবেল’-এর নাম এসেছে। তাদের সঙ্গে জায়গাটির কেয়ারটেকার মো. আনিস এবং ভূমিদস্যু মো. মারুফ ও ভূমিদস্যু মো. সখিরের যোগসাজশেরও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় জনৈক শওকত নামের ব্যক্তিকে গাছ কাটার ঠিকাদারি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সখির ও মারুফের সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের জমি দখলের চেষ্টা করা হতো। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির কিছু নেতাকে ব্যবহার করে একই ধরনের জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এর আগেও মো. মারুফের বিরুদ্ধে পাশের একটি জায়গা থেকে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় বন বিভাগের তদন্তের পর তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও তারা দাবি করেন।
চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুনির আহমেদ সওদাগর বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই অভিযোগ করেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ দস্তগীর। তার দাবি, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা ও মোহাম্মদ সখিরসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে এটিএম হানিফ বলেন, তারা মো. মারুফের কাছ থেকে বালু ভরাটের কাজ নিয়েছেন। গাছ কাটার সঙ্গে তারা জড়িত নন এবং গাছ কাটার সময় ঘটনাস্থলেও ছিলেন না।
মো. মারুফ বলেন, তিনি একটি গাছ কাটার কথা জানেন, তবে জায়গাটি তিনি কেনেননি এবং কাউকে বালু ভরাটের অনুমতিও দেননি।
এ ডব্লিউ আর রিয়েল এস্টেটের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শওকত বলেন, জায়গাটি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। গাছ কাটা ও বাউন্ডারি ভেঙে বালু ভরাটের বিষয়টি তারা জানতেন না। এ ঘটনায় তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি যাচাই করতে কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিদুয়ানুল ইসলাম জানান, কাটা গাছগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা গাছ কেটেছে, তাদের নামসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা হলে সরকারি গাছ কাটার দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হবে।