মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘার সড়ক যেন মরন ফাঁদ বাকেরগঞ্জে যুবতীকে মডার্ন ক্লিনিকে ডেকে এনে নৈশ প্রহরীর ধর্ষণ চেষ্টা! কর্ণফুলী থানায় জব্দ ইয়াবা বদলে বিক্রির অভিযোগ, ১২ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের দাবি প্রাথমিকের ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুরের শপথ আজ ‘Akshay Showed Him, Saif Had No Idea’: Saiyami Kher On Haiwaan Star’s Viral Faiz-Ghalib Reel | Exclusive | Bollywood News ‘Pakistan cricket has gone back 10 years’: Saeed Ajmal launches scathing PCB attack | Cricket News মিথ্যা আশ্বাসে বিদ্যুৎ সংকট আড়াল করা যাবে না: ডা. শফিকুর – Sarabangla | Breaking News | Sports গুণগত কানেক্টিভিটিই সরকারের মূল লক্ষ্য: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী কর্ণফুলীতে গভীর রাতে সরকারি গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা বিএনপি নেতাসহ সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর

কর্ণফুলী থানায় জব্দ ইয়াবা বদলে বিক্রির অভিযোগ, ১২ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের দাবি

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৫ সময় দেখুন
কর্ণফুলী থানায় জব্দ ইয়াবা বদলে বিক্রির অভিযোগ, ১২ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের দাবি

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা ইয়াবা যদি পুলিশের মালখানায় ঢোকার পরই ‘উধাও’ হয়ে যায়, আর তার জায়গায় আদালতে পাঠানো হয় নষ্ট কিংবা ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট-তাহলে প্রশ্ন শুধু একটি থানার মালখানা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নয়; প্রশ্ন ওঠে পুরো মাদক মামলার আলামত সংরক্ষণ ও বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ি ও থানার মালখানা ঘিরে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই চয়ন কুমার দাস এবং থানার মালখানা কর্মকর্তা এসআই মাহিন ছারোয়ার। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের যোগসাজশে বিভিন্ন মাদক মামলায় জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি অংশ পরিবর্তন করে তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে অপেক্ষাকৃত নষ্ট বা নিম্নমানের ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট আলামত হিসেবে আদালতে পাঠিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ-একটি মামলায় ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবার আলামত পরিবর্তন করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদক মামলা রুজু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ইয়াবা আলাদা করে রাখা হয়। এরপর অবশিষ্ট আলামত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকৃত ইয়াবার পরিবর্তে নষ্ট বা নিম্নমানের ইয়াবা সদৃশ ট্যাবলেট আলামত হিসেবে প্রস্তুত করে তা আদালতে পাঠানো হয়।

এ ক্ষেত্রে কর্ণফুলী থানার মামলা নম্বর-০৭, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় দায়ের করা এ মামলায় ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা আলামত পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরিবর্তন করা প্রকৃত ইয়াবা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ কাজে পুলিশের কথিত সোর্স ও কয়েকজন সদস্যের নামও উঠে এসেছে।

অভিযোগে চেকার হারুন, কনস্টেবল মাসুদ, বাকলিয়া কালামিয়া বাজার এলাকার মামু, ইসহাক, সোহেল, সেলিম, আনোয়ারার রফিক ওরফে ‘সোনা রফিক’সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে কর্ণফুলী কলেজ বাজার এলাকার পুলিশের কথিত সোর্স বাবুলের নামও এসেছে। তার কাছে জব্দ করা ইয়াবা বিক্রি করে দেওয়া এবং তার পরিবর্তে নষ্ট ইয়াবা আলামত হিসেবে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আলামত বিক্রির অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে ড্রাইভার কনস্টেবল নূর মোহাম্মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে এবং বিরোধ এখনো চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসআই চায়ন কুমার দাসকে ঘিরে দ্বিতীয় আরেকটি বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ আগস্ট ২০২৬ রাতে মইজ্জারটেক চেকপোস্টে ডিউটিরত অবস্থায় ১২ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে তার সঙ্গে থাকা ফোর্স ও চেকার হারুনের সহায়তায় ওই ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো-আলামত পরিবর্তনের পর সেগুলো আদালতের মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জি আর শাখার এএসআই শাহাদাতকে অর্থ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে প্রতি শনিবার ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এসব আলামত ধ্বংস করা হয়।

এসআই চায়ন কুমার দাসের বিরুদ্ধে মাদক আলামত সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি দায়িত্বাধীন এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সব অভিযোগ মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-এগুলো কি বিচ্ছিন্ন কিছু অনিয়ম, নাকি পুলিশের হেফাজতে থাকা মাদক আলামতকে ঘিরে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করছে?

জানতে চাইলে ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই চায়ন কুমার দাস বলেন, আলামত বদল কিংবা বিক্রি করা হয়নি। সব ঠিক মতো আছে। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর