ঢাকা: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান তিনটি কারণে ইউনিক। এটি একটি নিরস্ত্র বিপ্লব ছিল, এই বিপ্লবে কোনো বিদেশি শক্তি সহায়তা করেনি এবং এখানে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না। তিনি আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের চেয়ে জুলাইকে একটি চলমান বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পুরো রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের জন্যই এই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। সেজন্য জুলাইয়ের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) সেমিনার হলে ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ প্রকৌশলীদের স্মরণে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান’ তিনি এ সব কথা বলেন।
ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান। আর প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সত্তর ভাগ মানুষের রায়ের পরও সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছে। সরকার এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারেনি। বরং, বিভিন্ন পদে দলীয় কোটায় নিয়োগ দিচ্ছে।’ তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না ঘটলে দেশের সংকট কাটবে না বলে মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বর্তমানে বিএনপির দলীয় কোটাভিত্তিক বাংলাদেশ চলছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয় শাখায় পরিণত করা হচ্ছে।’
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘আইন বানানোর জায়গায় শিক্ষাগত যোগ্যতা না লাগলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঠিকই তা বেঁধে দেওয়া হয় এবং বিরোধীদল হিসেবে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তা সরকারি দলের কাছে হাস্যকর মনে হয়।’
অনুষ্ঠানে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন যে, বিএনপি মুখে সংস্কারের কথা বললেও তাদের অন্তরে ক্ষমতার চেয়ার ও একক কর্তৃত্ব নেওয়ার বাসনা রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগে উঠে-পড়ে লেগেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আজমী, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদসহ শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা।