স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম বন্ধের পর অবশেষে খুলেছে বিদ্যালয়। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এসে ভিড় জমিয়েছে বিদ্যালয়ের বারান্দায়। উৎসবের উৎসাহে খোলা হয়েছে ক্লাসরুম। তবে বিদ্যালয় খুললেও শঙ্কায় রয়েছেন অনেক অভিভাবক। অনেক শিক্ষকরাও রয়েছেন করোনা সংক্রমণের ভয়ে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো করোনা নিয়ে শঙ্কার ভেতরে আছেন। বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেছেন, শিক্ষার্থী সমাবেশের কারণে আবার বাড়তে পারে করোনার প্রকোপ।
আজিমপুর ভিকারুননেসা শাখার একজন অভিভাবক আসিয়া আক্তার বলেন, আমার পরিবারে করোনায় দুজন সদস্য মারা গেছেন। স্বাভাবিকভাবেই রোগটি নিয়ে আমাদের মধ্যে একধরনের শঙ্কা কাজ করে। বিদ্যালয় খুলে দিয়েছে, তাই সন্তানকে ক্লাসে পাঠিয়েছি। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত করোনার প্রকোপ বাড়াবে বলেই মনে হচ্ছে আমার।
কয়েকজন শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুব কাছাকাছি মন্তব্য করেছেন। নিজেরা যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মানছেন, তবে সবাই এই বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানতে পারবে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন তারা।
এসব শিক্ষক বলছেন, যতই স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হোক না কেন, এত এত শিক্ষার্থীর ভেতর সেটি পুরোপুরিভাবে মানা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সবাইকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে আজ স্কুল-কলেজ খুললেও সব শিক্ষার্থী একসঙ্গে যায়নি। শুধু ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয়েছে আজ। এদের সঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির মধ্যে যে কোনো একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে এক দিন করে যাবে। দুটি করে ক্লাস ধরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই রুটিন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে মহামারির কারণে বন্ধ ছিল এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সারাবাংলা/টিএস/এএম